
কানাডার জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম স্থাপনা পার্লামেন্ট হিলের আইকনিক পিস টাওয়ার আগামী বছর থেকে আর দর্শনার্থীদের চোখে ধরা দেবে না। প্রায় একশ বছরের পুরোনো এই টাওয়ারকে সংস্কার ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে অস্থায়ী ইস্পাত কাঠামোর আড়ালে ঢেকে রাখা হবে। এর মাধ্যমে কর্মীরা টাওয়ারের ভেতর ও বাইরে নিরাপদে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট কানাডার জ্যেষ্ঠ নির্মাণ পরিচালক সিয়াভাশ মহাজের জানিয়েছেন, সংস্কার প্রকল্পে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কানাডায় তৈরি ইস্পাত ব্যবহারের ওপর। এর পেছনে আংশিকভাবে কারণ হিসেবে কাজ করেছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে কানাডার ওপর আরোপিত ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শুল্ক যা দেশের নির্মাণ খাতকে দেশীয় উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে আরও সচেতন করেছে।
মহাজের বলেন, “প্রথম দিকে অস্থায়ী কাঠামোর নকশায় প্রচুর পরিমাণ বিদেশি ইস্পাতের প্রয়োজন হতো। কিন্তু আমরা সেই পথ থেকে সরে এসেছি। ডিজাইনারদের সামনে চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে যেন তারা এমন নকশা তৈরি করেন যা শতভাগ কানাডায় তৈরি ইস্পাত দিয়ে নির্মাণ করা সম্ভব হয়। এখন আমাদের কেনা সব ইস্পাতই দেশীয় উৎস থেকে আসছে এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।”
শুধু পিস টাওয়ার নয়, পার্লামেন্ট হিলের অন্যান্য অংশের চলমান সংস্কারেও একই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। পরিকল্পনাবিদদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের ডিজাইন এমনভাবে বদলাতে যাতে কাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারের প্রধান উপাদানগুলো কানাডিয়ান উৎস থেকেই সংগ্রহ করা যায়। যেখানে তা সম্ভব নয়, সেখানে বিকল্প উৎস খুঁজে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহাজের আরও বলেন, “এটা এখনো খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের বেশির ভাগ উপাদানই কানাডায় উৎপাদিত সামগ্রী দিয়ে তৈরি হবে। এতে দেশীয় শিল্পও শক্তিশালী হবে, আর জাতীয় ঐতিহ্যের ভবনগুলো সংরক্ষণে দেশীয় সম্পদ ব্যবহারের গর্বও যুক্ত হবে।”
উল্লেখ্য, সেন্টার ব্লক যার অংশ পিস টাওয়ার ২০১৮ সালের শেষ দিকে সংস্কারের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘমেয়াদি এই প্রকল্প ২০৩০ সালের দিকে কোনো এক সময় সমাপ্ত হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি থেকে ৫০৫ কোটি ডলার।
সংস্কার শেষ হলে কানাডার সংসদ ভবনের এই ঐতিহাসিক অংশ আবারও জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে ততদিন দর্শনার্থীদের পিস টাওয়ারের প্রকৃত চেহারা নয়, বরং ইস্পাতের আবরণে মোড়ানো তার অস্থায়ী রূপই দেখতে হবে।

