
অন্তরঙ্গ সম্পর্কের ভেতরে এক পক্ষের দ্বারা অন্য পক্ষকে আর্থিক, মানসিক বা সামাজিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার মতো আচরণ যা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ নামে পরিচিত একেই ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে কানাডায়। এই প্রেক্ষাপটে নতুন জাস্টিস বিল প্রণয়নে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন দেশের বিচারমন্ত্রী শন ফ্রেজার।
হাউস অব কমন্সের স্ট্যাটাস অব উইমেন কমিটি দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ, পোষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করা বা কাউকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখার মতো আচরণকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছে। কমিটির এমপিরা স্পষ্টভাবে বলছেন, “জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণকে ফৌজদারি অপরাধ ঘোষণা দেওয়ার পূর্ববর্তী বিলটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।”
তাদের মতে, এই আচরণগুলো প্রায়ই ঘরোয়া সহিংসতার পূর্বলক্ষণ হিসেবেও দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক সহিংসতা শুরু হওয়ার বহু আগেই জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল বা দুর্বল করে তোলা হয়।
অটোয়াতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিচারমন্ত্রী শন ফ্রেজার বলেন “স্ট্যাটাস অব উইমেন কমিটির মতামত বর্তমানে আমার সর্বোচ্চ বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি এই বিষয়ে যেসব বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন, তাদের পরামর্শও আমরা গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করছি।”
তিনি জানান, বছরের শেষ হওয়ার আগেই নতুন আইনটি সংসদে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আইনটিতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ ও আধুনিক সামাজিক বাস্তবতায় উদ্ভূত জটিল আচরণগত অপরাধ সবই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফ্রেজার আরও বলেন, চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুতের আগে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে আইনটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে।
কনজার্ভেটিভ এমপি মেরিলিন গ্লাডু বলেন, জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ প্রায়ই ইন্টিমেট পার্টনার ভায়োলেন্সের (IPV) একটি অংশ। কিন্তু সাধারণ মানুষ, এমনকি পুলিশ ও আদালত সবাই সবসময় এ আচরণকে সহিংসতার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন না।
বিশ্বের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণকে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে এবং সেখানে জোরপূর্বক আচরণের নির্দিষ্ট তালিকা আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে গ্লাডু মনে করেন, কানাডায় একই পদ্ধতি কতটা সফল হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
তার মতে, “আইনটি যতই শক্তিশালী হোক, যদি পুলিশ ও বিচার বিভাগ সঠিকভাবে বুঝে বাস্তবায়ন করতে না পারে, তবে আইন কার্যকর হবে না। উন্নত প্রশিক্ষণ ছাড়া এই ধরনের আইন বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব।”
কানাডায় ঘরোয়া সহিংসতার মামলায় জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন অনেক ভুক্তভোগী শারীরিক আঘাত পাওয়ার আগেই দীর্ঘ সময় মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের শিকার হন, অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন হওয়ায় বিচার পেতে সময় লাগে, বর্তমান ফৌজদারি আইনে এ আচরণের স্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও অনেক সময় বিভ্রান্ত হন। ফলে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করলে ভুক্তভোগীরা আগেভাগেই সহায়তা পেতে পারেন, এবং সহিংসতা শুরু হওয়ার আগেই হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হবে।
বছরের শেষ নাগাদ নতুন জাস্টিস বিল সংসদে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিলটি পাস হলে কানাডার ফৌজদারি আইন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নির্যাতনের ক্ষেত্রে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত কাঠামো পাবে। তবে আইনটি কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে প্রশিক্ষণ, সচেতনতা এবং আদালতের ব্যাখ্যার ওপর এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

