
পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসার আগেভাগে শনাক্তে সহায়ক সাধারণ রক্ত পরীক্ষা পিএসএ (প্রোস্টেট-স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন) এই পরীক্ষার ব্যয় সরকারকে বহন করার দাবি আবারও জোরালো হয়েছে। কুইন’স পার্কে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে নায়াগ্রার এনডিপি এমপিপি ওয়েন গেটস ওন্টারিও সরকারকে আহ্বান জানান, যাতে ওএইচআইপি’র আওতায় এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়।
বর্তমানে প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি না থাকলে বা চিকিৎসক সন্দেহ প্রকাশ না করলে, পিএসএ পরীক্ষার ফি প্রায় ৪০ ডলার রোগীকেই পরিশোধ করতে হয়। তবে চিকিৎসক বা নার্স যদি মনে করেন রোগী ইতোমধ্যে প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকিতে রয়েছেন, সে ক্ষেত্রে পরীক্ষা ওএইচআইপি কাভার করে।
গেটস বলেন, “অনেকের কাছে ৪০ ডলার হয়তো বড় অঙ্ক নয়, কিন্তু অনেক পরিবারেই এই টাকা পরীক্ষাকে পিছিয়ে দেওয়ার মতো চাপ সৃষ্টি করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ স্ক্রিনিং এড়িয়ে যান অনেকে, যা জীবনহানির ঝুঁকি বাড়ায়। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয় এটি পুরুষদের জীবন রক্ষার বিষয়।”
সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রোস্টেট ক্যানসার থেকে বেঁচে যাওয়া ডেভিড ফ্লুস। তিনি জানান, ২০১৩ সালে এক বন্ধুকে দেওয়া কথা অনুযায়ী তিনি পিএসএ পরীক্ষা করতে যান। “চিকিৎসক প্রথমেই জানতে চাইলেন আমার পরিবারে কারও প্রোস্টেট ক্যানসার আছে কি না। আমি ‘না’ বলতেই তিনি জানালেন, আমার ঝুঁকি খুব কম। তারপরও আমার অনুরোধে তিনি পরীক্ষা করে দিলেন এবং বললেন, এর খরচ প্রায় ৪০ ডলার,” বলেন ফ্লুস।
কিন্তু পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়ে চিকিৎসকই বিস্মিত হন। তার পিএসএ লেভেল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া যায়। পরবর্তী বায়োপসিতে দেখা যায় তিনি আগ্রাসী ধরনের প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত। ফ্লুস বলেন, “আমার ইউরোলজিস্টও জানিয়েছেন, যদি কয়েক বছর পরে এই ক্যানসার ধরা পড়ত, তাহলে ফলাফল ভয়াবহ হতে পারত। সময়মতো পরীক্ষাই আমাকে বাঁচিয়েছে।”
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য বলছে দেশে ক্যানসারে আক্রান্ত পুরুষদের প্রতি পাঁচ জনের একজন প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার পুরুষ মৃত্যুবরণ করেন শুধুমাত্র প্রোস্টেট ক্যানসারের কারণে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স ৫০ বছরের পর পুরুষদের নিয়মিত পিএসএ টেস্ট করা অত্যন্ত জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি যাদের পরিবারে প্রোস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস আছে তাদের আরও আগেভাগে পরীক্ষা করা উচিত।
ওন্টারিওতে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী সংগঠন এবং বিরোধী দলগুলো পিএসএ পরীক্ষা বিনামূল্যে করার দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের যুক্তি, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে প্রোস্টেট ক্যানসার খুবই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। কিন্তু মাত্র ৪০ ডলারের পরীক্ষা অনেক পুরুষ এড়িয়ে যাওয়ায় রোগটি দেরিতে ধরা পড়ে এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায়।
এখন দেখার বিষয় বিরোধীদলের এই নতুন চাপের ফলে প্রাদেশিক সরকার পিএসএ পরীক্ষা ব্যাপকভাবে বিনামূল্যে করার বিষয়ে নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় কি না।

