
কানাডা পোস্টে চলমান পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও কর্মীদের সঙ্গে তীব্র শ্রমবিরোধের প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবস্থাপককে ছাঁটাই করা হয়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র প্রথমে সিটিভি নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে সংস্থাটিও এক বিবৃতিতে ছাঁটাইয়ের সত্যতা স্বীকার করেছে, যদিও ঠিক কতজন ব্যবস্থাপককে অপসারণ করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডগ ইটিঙ্গার কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ মেমোতে জানান, কানাডা পোস্টের ভবিষ্যৎ চাহিদা ও ব্যবসায়িক বাস্তবতার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সামঞ্জস্য আনতে কর্পোরেট-ব্যাপী পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি লেখেন, “সিদ্ধান্তগুলো কখনই সহজ নয়। তবে প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকা ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার স্বার্থে কখনো কখনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।”
এ বিষয়ে প্রথম সংবাদ প্রকাশ করে টরন্টো স্টার। গত মাসে কানাডার সরকারি পরিবহনমন্ত্রী জোয়েল লাইটবাউন্ড কানাডা পোস্টের আর্থিক ও কাঠামোগত সংকট মোকাবিলার জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেন যে প্রতিষ্ঠানটি “কার্যত দেউলিয়া” অবস্থায় রয়েছে। তাঁর ঘোষণায় লেটার মেইল ডেলিভারি স্ট্যান্ডার্ড পরিবর্তন, কমিউনিটি মেইলবক্স রূপান্তরের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং গ্রামীণ পোস্ট অফিস সম্পর্কিত বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এর পাশাপাশি, সরকার কানাডা পোস্টকে ব্যবস্থাপনা ও কর্মীসংক্রান্ত ব্যয় ১৫ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তই কর্মী ইউনিয়নকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করে তোলে।
সরকারের নির্দেশের পরপরই দেশজুড়ে ৫৫ হাজার কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন তাৎক্ষণিকভাবে ধর্মঘট আহ্বান করে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শ্রমবিরোধ নতুন মোড় নেয়। গত ৯ অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পালাক্রমে ধর্মঘট শুরু করে, যা মেইল বিতরণ এবং অন্যান্য পোস্টাল সেবাকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করেছে।
এদিকে, ক্রাউন কর্পোরেশন ও কর্মী ইউনিয়নের মধ্যে আলোচনা স্থগিত থাকলেও চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নতুন করে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। দি কানাডিয়ান প্রেস জানিয়েছে, উভয়পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যদিও সংঘাতের বর্তমান তীব্রতায় দ্রুত সমাধান কতটা সম্ভব তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
কানাডা পোস্টের এই বড় ধরনের ছাঁটাই ও চলমান শ্রমবিরোধ পোস্টাল সেবার ভবিষ্যৎ, কর্মীদের নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পুনর্গঠনের সক্ষমতা সবকিছুকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। পরিস্থিতি কোনদিকে গড়ায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

