তারেক রহমানের বক্তব্যে অশ্রুসিক্ত বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

তারেক রহমানের বক্তব্যে অশ্রুসিক্ত বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা - the Bengali Times
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফাইল ছবি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আবেগঘন বক্তব্যে অশ্রুসিক্ত হলেন মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে ঢাকা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি যখন নিজের মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা বলেন, উপস্থিত নেতাদের মধ্যে কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। এসময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তারেক রহমান দলের ঐক্য, ত্যাগ ও মূল্যায়ন বিষয়ে হৃদয়ছোঁয়া বক্তব্য রাখেন।

- Advertisement -

তারেক রহমান বলেন, আমার মা-ও মৃত্যুর মুখোমুখি ছিল। ইচ্ছে করলে মাকে নিয়ে আসতে পারতাম। কিন্তু মা তো আপনাদের ছেড়ে আসেননি। ছয়বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও মা আপনাদের ত্যাগ করেননি।

যিনি আপনাদের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সেই মাকে সামনে রেখে আপনারা এক থাকবেন।

তারেক রহমান আরো বলেন, শেখ হাসিনা আমার মাকে চল্লিশ বছরের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। মা তার সন্তানকেও হারিয়েছেন। কিন্তু সেই মা কখনো আপস করেননি।

কারণ, তার লক্ষ্য ছিল একটি ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা। ইচ্ছে করলে মা আপস করতে পারতেন, তবুও করেননি। কারণ, মা জানতেন—এই আপস জনগণকে দূরে সরিয়ে দেবে।

একপর্যায়ে তারেক রহমান এক আদালতের ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, দুই মায়ের মধ্যে এক সন্তানের দাবিতে বিচারক বলেছিলেন, সন্তানকে দুই ভাগ করে দেবেন। তখন আসল মা বলেছিলেন, সন্তানকে ভাগ করবেন না, অন্যজনকেই দিন—আমি দূর থেকে দেখব।

আসল মা তিনিই, যিনি সন্তানের ক্ষতি হতে দেননি।

আমি চাই আপনারা সেই আসল মায়ের মতো হোন। ঐক্যের স্বার্থে ত্যাগ শিখুন। একজন প্রার্থীকে সবাই সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করুন। ঐক্যবদ্ধ থাকুন, তাহলেই বিএনপি এগিয়ে যাবে। বক্তৃতার একপর্যায়ে তারেক রহমান নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সভা শেষে একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, তারেক রহমানের কথায় ছিল না রাজনীতি, ছিল এক মা ও ছেলের আত্মত্যাগের গল্প। সেই গল্পের ভেতরেই দলীয় ঐক্যের বার্তা।

রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে সভা চলে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বক্তব্য দেন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles