
বিকৃত মানসিকতা পেয়ে বসেছিল আলজেরিয়ার ২৭ বছরের যুবতী দাহবিয়া বেনকিরেডকে । তিনি যৌন লালসা মেটাতে মাত্র ১২ বছর বয়সী একটি কন্যাশিশুকে বেছে নেন। অভিযোগ আছে, তিন বছর আগে ওই কন্যাশিশুকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও শেষে হত্যা করেছেন তিনি। এ অপরাধে তাকে আজীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। ঘটনাটি ঘটেছে ফ্রান্সে। অপরাধের জন্য কমপক্ষে ৩০ বছর কারাগারে কাটাতে হবে ওই যুবতীকে। এটি ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো কোনো মহিলার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি, যা ফ্রেঞ্চ ফৌজদারি আইন অনুযায়ী সবচেয়ে কঠোর শাস্তি।
শিশুটির নাম লোলা ড্যাভিয়েতে। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ড্যাভিয়েতের দেহ তার বাসস্থান এলাকায় প্লাস্টিকের বাক্সে ভরে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায়। প্যারিস পুলিশের প্রসিকিউটরের একটি বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। শিশুটি হারিয়ে যাওয়ার খবর প্রথম প্রচার হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার দেহ পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের দিন দুপুর ৩:১৫ টায় স্কুলছাত্রীটি বেনকিরেডের সঙ্গে তার অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে প্রবেশ করেছে। দুই ঘণ্টারও কম সময় পর, হত্যাকারীকে একা ভারী লাগেজ বহন করতে দেখা যায়।
পুলিশ প্রসিকিউটরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ড্যাভিয়েত কার্ডিওরেস্পিরেটরি ফেইলিউর ও শ্বাসকষ্ট ও ঘাড়ের চাপে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিশেষ করে মুখ, পিঠ এবং ঘাড়ে বড় কাটার দাগ ছিল। তবে করোনারের রিপোর্ট অনুযায়ী এই আঘাতগুলো তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে গণ্য হয়নি। বেনকিরেড পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি ড্যাভিয়েতকে তার বোনের অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে গিয়েছিলেন, যা শিশুর বসবাসরত ভবনের একই ভবনে ছিল। সেখানে তিনি শিশুটিকে গোসল করানোর পর যৌন নিপীড়ন ও অন্যান্য হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছিলেন। যা তার মৃত্যুর কারণ। পরে শিশুর দেহটি প্লাস্টিক বাক্সে লুকিয়ে রাখেন। শুক্রবার আদালতে বেনকিরেড তার অপরাধকে ভয়াবহ বলে স্বীকার করেন এবং বিচারপতির সিদ্ধান্তের আগে ক্ষমা চান।

