4.9 C
Toronto
মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৬, ২০২১

বিকল্প পথ প্রয়োজন ছিলো

অন্টারিও সরকারের ক্যাম্পেইন

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার মারাত্নক ভুল পরিকল্পনা গ্রহন করেছিল। একমাত্র ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটের উৎপাদিত ভ্যাক্সিনের উপর নির্ভর না থেকে আরো বিকল্প পথ খোলা রাখা উচিত ছিল। কারন, ভারত তার নিজের চাহিদা পূরন না হওয়া পর্যন্ত সেরাম ইন্সটিটিউটকে ভ্যাক্সিন রপ্তানি করতে দিবে না। আর ভারতের বিপুল জনসংখ্যার চাহিদা পূরন করতে দীর্ঘ দিন লেগে যাবে। তত দিন বাংলাদেশ ভ্যাক্সিন ছাড়া থাকলে তার পরিনতি হবে ভয়াবহ। বাস্তবে ঠিক সেটাই হয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর জনসাধারণকে করোনার টিকা দিতে পারছে না।

বাংলাদেশের উচিত ছিল, রাশিয়া কিংবা চীনের সংগে ভ্যাক্সিন পাবার জন্য চুক্তি করা। ভ্যাক্সিনের জন্য এককভাবে ভারতের উপর নির্ভরশীল থাকার সীদ্ধান্তটা ছিল একটি ভুল সীদ্ধান্ত।

এখন লকডাউন কিংবা শার্টডাউন দিয়ে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়ত সক্ষম হবে কিন্তু এটি কোন সমাধান নয়। কারন, অধিকাংশ জনসংখ্যাকে ভ্যাক্সিন ছাড়া রেখে লকডাউন/শার্টডাউন দিলে করোনা সংক্রমণ সাময়ীক ভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও লকডাউন/শার্টডাউন উঠিয়ে নিলে আবার সংক্রমণ বেড়ে যাবে। এভাবে দীর্ঘ দিন চলা সম্ভব নয়। অর্থনীতি সচল রাখার জন্য লকডাউন দীর্ঘ দিন রাখাও যাবে না।

জনসাধারণকে ভ্যাক্সিন দিতে না পারায় বাংলাদেশে এখন ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট(ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট) প্রকটভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

সমস্যা হচ্ছে, বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকেও কোন শিক্ষা নেয় না। কানাডা সরকার ভ্যাক্সিনের জন্য সকল প্রকার পথ খোলা রেখেছে। প্রায় প্রতিটি বড় বড় ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির সাথে ভ্যাক্সিন পাওয়ার জন্য চুক্তি করেছে। এর পরেও কানাডা ভ্যাক্সিনের সরবরাহ ঠিক রাখতে পারছে না। সেখানে বাংলাদেশ শুধুমাত্র একটি ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির সাথে চুক্তি করে কিভাবে নিশ্চিত থাকে? তাও আবার চুক্তি করা হয়েছে বেক্সিমকো ফার্মার মাধ্যমে।

বাংলাদেশ ভ্যাক্সিনের সরবরাহ পর্যপ্ত রাখতে পারলে এত দিনে জনসংখ্যার অনেকাংশ ভ্যাক্সিনের আওতায় চলে আসতো। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টও এভাবে ছড়াতো না।

এখন বাংলাদেশ সরকার ভ্যাক্সিনের জন্য কি করতে চাচ্ছে তাও স্পষ্ট নয়। একবার শোনা গেছে, রাশিয়া থেকে ফর্মুলা এনে বাংলাদেশেই স্পুটনিক-৫ উৎপাদন করা হবে। আবার শুনি চীনের সংগে ভ্যাক্সিনের জন্য চুক্তি হচ্ছে। সেই চুক্তিতে ভুল জায়গায় স্বাক্ষর হওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে।

দেশজ ভ্যাক্সিন তৈরির কথাও শোনা গেছে।

গ্লোব বায়োটেক “বঙ্গভ্যাক্স” এর অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিল।

বাংলাদেশে মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)

সেই অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত দিয়েছে। ‘শর্ত হলো, ফেজ ওয়ান ট্রায়ালের আগে বানর বা শিম্পাঞ্জির ওপর পরীক্ষা করতে হবে। এটা বিএমআরসির একটা নিয়ম। সেই নিয়ম মানলে আমরা অনুমতি দিতে পারবো।”

সেই নিয়ম অনুযায়ী, শিম্পাঞ্জি ও বানরের ওপরে টিকা প্রয়োগ করার পর সেটার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সমস্ত কাগজপত্র বিএমআরসিতে জমা দিতে হবে। এরপরই প্রতিষ্ঠান মানব দেহের ওপর টিকার ট্রায়াল চালানোর অনুমতি পেতে পারবে।” (বিএমআরসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোঃ রুহুল আমিন)

এই হচ্ছে বাংলাদেশের অবস্থা। দেখা যাচ্ছে, সব গুলি পদক্ষেপই সময় সাপেক্ষ।

ততদিন কি ভাইরাস বসে থাকবে? ভাইরাস নিয়ম অনুযায়ী ছড়াতে থাকবে, মিউটেট হতে থাকবে।

স্বল্প সময়ে জরুরী ভিত্তিতে ভ্যাক্সিন আনার কি পথ বাংলাদেশ সরকার খোলা রেখেছে?

তাই মোটা দাগে বলা যায়, বাংলাদেশের অবস্থা “এলার্মিং”।

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement - Visit the MDN site

Related Articles

- Advertisement - Visit the MDN site

Latest Articles