
বিএনপি আওয়ামী লীগের নাম ধরে সাধারণত আমি লিখি না। বেশীরভাগ সময় আকারে ইংগিতে লিখি। কিন্তু দেশের ও বিশ্বের নানা সংকট মাথায় রেখে গতরাতে বিএনপি নিয়ে কিছু কথা লিখেছি বৃহত্তর কিছু বিষয় মাথায় নিয়ে। আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি নিয়েও কিছু কথা লেখা দরকার তবে লিখবো কিনা জানি না। এসব লেখা লিখে নিজের ও আশে পাশের বন্ধু স্বজনদের কিছুটা মানসিক চাপ লাঘব হওয়া ছাড়া আর কিছু হয় না। যারা ঐসব দলের মালিক তাদের কাছে পৌঁছে না, বা কালে ভদ্রে পৌছুলেও তারা সেগুলো পাত্তা দেন না। তার উপর ফেসবুকের নুতন নুতন পয়সা কামানোর ধান্দা। জোর করে আমার ফেসবুক প্রোফাইলকে ক্লাসিক্যাল মোড থেকে প্রফেশনাল মোডে নিয়ে গেছে। প্রফেশনাল মোডে নিয়ে গিয়েই আমার লেখাকে তারা কন্ট্রোল করে প্রতিদিন বুষ্ট করতে বলে। বুষ্ট করতে বলা মানে টাকা দিয়ে বুষ্ট করা যাতে বেশী লোকের কাছে পৌঁছায়। আমিতো সেটা করবো না। গ্রাফ এঁকে দেখিয়ে দেয় বুষ্ট করলে কত বেশী লোকের কাছে যেত লেখাটা। তারা চায় আমিও ফেসবুক থেকে পয়সা কামাই, উনাদেরকেও তার ভাগ দেই। কিন্তু আমি সেটা করবো না।
যাহোক মুল কথায় আসি। যারা আমার আগের লেখাটায় কমেন্ট করেছেন তাদের অনেকেই চমৎকার পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন যা অস্বীকার করার উপায় নাই। মুল কথা হলো এসব দলের মধ্যে গনতন্ত্রের চর্চাতো নেইই বরং অবৈধ পয়সা কামানোর এমন সব রাস্তা অবারিত রয়েছে, এমনসব ছিদ্র রয়েছে যা সবসময় জনগণের বদনাম ডেকে আনবেই। এসব নিয়ে বহুবার লিখেছি। নিয়মিত কাজকর্ম করে সংসার চালানোয় সর্বশক্তি নিয়োগ না করে দেশের অনেক লোক এসব রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হয় শর্টকাটে টাকা কামানোর জন্যে। সেসব রাস্তা যদি বন্ধ করা যেত তাহলে কোটি কোটি লোক দল করা বন্ধ করে দিত। প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের যে সভা সমাবেশ করা হয়, দলের এত এত গ্রুপিং, কোন্দল এসব করতে অঢেল টাকার প্রয়োজন হয়। টাকাগুলো কোথা থেকে আসে?
সেজন্যেই বলি দেশে সংস্কার বিষয়টা খুবই জরুরী ছিল। সংস্কার মানে অবৈধ অর্থের উৎস বন্ধ করে দেয়া। তা সে রাজনীতি হোক বা প্রশাসনিক জায়গা হোক। আর অবৈধ অর্থের পথ বন্ধ করতে হলে জবাবদিহিতা মাষ্ট, আইনের শাসন মাষ্ট। সেটা করতে হলে অন্যতম একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে এমপিদের হাত থেকে উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্ব সরিয়ে নিয়ে তাদেরকে শুধুমাত্র আইন প্রণয়নের কাজে নিয়োজিত করা। এটা করলে দেশের অর্ধেক দুর্নীতি কমে যাবে। এমপি হতে এত লাফালাফি আর থাকবে না। শুধুমাত্র যোগ্য, আগ্রহী ও শিক্ষিত লোকজন এগিয়ে আসবে। আর এমপিরা যদি পয়সা কামাতে না পারে, তাহলে তারা স্হানীয় সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্বে যারা থাকবে তাদের পয়সা কামানোও বন্ধ করে দিবে। ফলে জবাবদিহিতা কায়েম অনেকাংশে সহজ হয়ে যাবে। হাট, ঘাট, মাঠ, বন্দর, টার্মিনালের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে। দলের মধ্যে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতা নির্বাচন শুরু হয়ে যাবে। এসব করতে হলে সত্যিকার সংস্কারে হাত দিতে হবে। জোর করে হলেও কিছু বিষয় চাপিয়ে দিতে হবে। কিন্তু যিনি জোর করবেন তার হতে হবে সৎ ও নির্মোহ, নিরপেক্ষ। সেটা আমরা বিগত একবছরে কমই দেখেছি। সংস্কার কমিশনে নারীদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। উচ্চকক্ষ, নিম্নকক্ষ করে লাভ হবে না যদি না এমপিদের পয়সা কামানোর রাস্তা বন্ধ করা যায়। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি বলে কথা নয়, কথা হলো, সিস্টেমে ছিদ্র রয়েছে। সেই ছিদ্র বন্ধ না করে দলগুলোর উপর দোষারোপ করে দেশকে একটা বিশেষ দিকে ঠেলে দেবার চেষ্টা করলে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কাছে বিরাট বিপদে পড়বে বলে আমি মনে করি।
অনেকেই বলেন আরো একশত বছর লাগবে। কেউ কেউ বলেন, মানুষের মানসিকতা বদলাতে হবে। কেউ কেউ বলেন, এটা কানাডা না। অথচ সকলেই জানেন, ছিদ্রটা কোথায়! ছিদ্র বন্ধ করতে মাঝে মাঝেই দেশে সুশীলদের সরকার গঠন হয়, সামরিক শাসন জারী হয়। তারপর তারাও একই পথে হাঁটে, ব্যর্থ হয়, বিদায় নেয়। যাহা বায়ান্ন তাহাই তেপ্পান্ন হয়ে ফিরে আসে। অথচ ড. ইউনুস সরকারের যোগ্যতা ও সক্ষমতা নিয়ে মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখেছিল!
স্কারবোরো, কানাডা

