
এআই-জেনারেটেড (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি) নগ্ন ছবির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে কিছু সাইবার চক্র। যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির এক কিশোরের আত্মহত্যার পর এমন খবর সামনে এসেছে। জানা গেছে, একটি এআই-জেনারেটেড (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি) নগ্ন ছবির ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩ হাজার ডলার আদায়ের চেষ্টা করেছিল একটি সাইবার চক্র।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর নতুন করে সামনে এসেছে কিশোর-কিশোরীদের টার্গেট করে পরিচালিত ‘সেক্সটর্শন’ নামের ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলের বিস্তার ও এর ভয়াবহতা।
সেক্সটর্শন হলো এক ধরনের ব্ল্যাকমেইল, যেখানে সাধারণত অনলাইনে অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিওর মাধ্যমে কাউকে ভয় দেখিয়ে বা প্রতারিত করে অর্থ আদায় বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
হাজারো কিশোর-কিশোরীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় টার্গেট করে এবং এআই প্রযুক্তি দিয়ে তাদের নগ্ন ছবি তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। নিহত ওই কিশোরের বাবা জন বারনেট মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘যারা আমাদের সন্তানদের টার্গেট করছে, তারা সুসংগঠিত, আর্থিকভাবে শক্তিশালী এবং নির্মম। তারা বাস্তব ছবি ব্যবহার করে না।
তারা এআই দিয়ে যা খুশি তৈরি করে এবং তা দিয়েই ব্ল্যাকমেইল করে।’
মার্কিন এফবিআই জানিয়েছে, ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলেরা বিশেষভাবে এই ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছে। এর ফলে আত্মহত্যার হার বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এইসব ব্ল্যাকমেইলের পেছনে কাজ করছে বিভিন্ন ‘নুডিফাই’ অ্যাপ—যেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যে কারো জামাকাপড় ডিজিটালি মুছে দিয়ে নগ্ন ছবি বানাতে সক্ষম।
আগে এসব অ্যাপ সেলিব্রিটিদের টার্গেট করলেও এখন তা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ ওয়াচডগ ‘ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন (আইডাব্লিউএফ)’ জানিয়েছে, ‘এখন শিশুদের আসল ছবি আর দরকার নেই। জেনারেটিভ এআই দিয়ে এমন ছবি তৈরি করা সম্ভব যেগুলো বাস্তবের মতোই ভয়াবহ এবং সেগুলো দিয়েই শিশুদের ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে।’
আইডাব্লিউএফ আরো জানিয়েছে, তারা এমন একটি ‘পেডোফাইল গাইড’ শনাক্ত করেছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে কীভাবে ‘নুডিফাই’ টুল ব্যবহার করে কিশোরীদের ব্ল্যাকমেইল করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিকেইটর-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৮৫টি নুডিফাই সাইটের বার্ষিক বাজারমূল্য হতে পারে ৩৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪০০ কোটি টাকা)।
মাত্র ছয় মাসে এসব সাইটের ১৮টি ২.৬ মিলিয়ন থেকে ১৮.৪ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এমনকি এসব সাইটের অনেকগুলো গুগল, অ্যামাজন ও ক্লাউডফ্লেয়ার-এর প্রযুক্তিগত সেবা ব্যবহার করেও সচল রয়েছে। ইন্ডিকেটর একে বলেছে ‘হ্যাক-এ-মোল গেম’—অর্থাৎ একটিকে বন্ধ করলেই আরেকটি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

