জানালা খোলা ছিল—ওভারব্রিজ থেকে দম্পতির ভিডিও করে ভাইরাল

জানালা খোলা ছিল—ওভারব্রিজ থেকে দম্পতির ভিডিও করে ভাইরাল - the Bengali Times
ছবি সংগৃহীত

ভারতের জয়পুরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে দম্পতির ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়ে নতুন করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিক শালীনতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার সময় হোটেলের জানালা খোলা ছিল এবং পাশের একটি ওভারব্রিজ থেকে এক পথচারী ওই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, হোটেল রুমটির বড় জানালা দিয়ে স্পষ্টভাবে এক দম্পতিকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই ওভারব্রিজ থেকে দৃশ্যটি দেখে কয়েকজন পথচারী মোবাইলে ভিডিও ধারণ শুরু করেন।

- Advertisement -

ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওধারীদের কেউ একজন তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওতে কিছু লোকের চিৎকার ও অশালীন মন্তব্যও শোনা যায়, যা রাস্তায় উপস্থিত জনতার কৌতূহল বাড়িয়ে দেয় এবং সাময়িক যানজটেরও সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর থেকে ভারতে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক—ঘরের ভেতরে ব্যক্তিগত মুহূর্তে থাকলেও, জানালা খোলা থাকলে তা কি আর ব্যক্তিগত থাকে? আর সেই সুযোগে অনুমতি ছাড়া ভিডিও করা কি আইনত বৈধ?

বিভিন্ন আইন বিশেষজ্ঞ এবং সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ঘরের জানালা খোলা থাকলেও সেটি কারও সম্মতি ছাড়া ভিডিও করা ভারতীয় সাইবার আইন ও তথ্য গোপনীয়তা আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।

বিষয়টি ‘Voyeurism’ বা ‘অবৈধভাবে কাউকে দেখতে চাওয়ার অপরাধ’ হিসেবে ধরা হতে পারে, যা ভারতের আইনগত ভাষায় Sections 66E ও 354C (IPC)-এর আওতায় পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিষয়টিকে “গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত” হিসেবে উল্লেখ করছেন। তারা বলছেন, দম্পতি বিবাহিত হোন বা না হোন, হোটেল কক্ষে ঘনিষ্ঠ সময় কাটানো তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। সেখানে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ, মন্তব্য করা এবং তা ভাইরাল করা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে সমালোচকরা বলছেন, জনসম্মুখে এমন দৃশ্য দেখার সুযোগ দেওয়া ঠিক হয়নি। হোটেল ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দম্পতির পরিচয় জানা যায়নি এবং তাদের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষ কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা শুধু ব্যক্তির গোপনীয়তা নয়, বরং ডিজিটাল নিরাপত্তা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং নৈতিকতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles