-14.4 C
Toronto
সোমবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২২

আজ মহান বিজয় দিবস

- Advertisement -

আজ মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ বীরের আত্মত্যাগ ও দুই লাখের বেশি মা-বোনের সম্ভ্রমহানির মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে উদিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা শত বাধা পেরিয়ে আজ ৫০ বছরে। স্বাধীনতার পর ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে উপহাস করা দেশটি আজ বিশ্বমঞ্চে এক বিস্ময়রূপে হাজির হয়েছে।

- Advertisement -

সুবর্ণজয়ন্তীর কারণে বাংলাদেশের এবারের বিজয় দিবসটি অন্য বিজয় দিবসের তুলনায় ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। একইসঙ্গে পার করছে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীও। বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। দিবস পালনে দেশে-বিদেশে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ভোরে ৫০ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালনের সূত্রপাত করা হবে। অন্যান্য সময় ৩১ বার তোপধ্বনি হলেও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এবার তোপধ্বনি ৫০ বার দেওয়া হবে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সড়কদ্বীপ ও মোড়ে আলোকসজ্জিত করা হয়েছে। মধ্যরাত থেকেই ঢাকার অলিগলিতে মাইকে বাজতে শোনা যায় বঙ্গবন্ধুর রেকর্ড করা ভাষণ ও মুক্তির গান। সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে লাল-সবুজে সেজেছে গোটা দেশ। রাজধানীসহ সারা দেশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ প্রতিপাদ্যে বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি এ আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানমালার প্রথম দিন অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকাল সাড়ে ৪টায় এবং অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিচালনায় থাকবে সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শপথ। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। শপথগ্রহণ শেষে আলোচনা পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সম্মানীয় অতিথির বক্তব্য রাখবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা সম্মানীয় অতিথিকে ‘মুজিব চিরন্তন’ শ্রদ্ধাস্মারক প্রদান করবেন।

জাতীয় পর্যায়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

ঢাকাস্থ বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রিত সদস্যরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

এ ছাড়া, সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরস্থ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমভিত্তিক যান্ত্রিক বহর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীও এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সূর্যোদয়ের ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল সাতটায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ১১টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। বিকাল সাড়ে ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিচালনায় শপথ অনুষ্ঠানে দলটি যোগ দেবে। এ ছাড়া ১৮ ডিসেম্বর শনিবার দলটি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর পর্যন্ত বিজয় শোভাযাত্রা করবে।

দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি বিজয় দিবস উপলক্ষে সকালে সাভার স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে তারা শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles