20 C
Toronto
রবিবার, আগস্ট ১৪, ২০২২

সাপ নয়, তবু সাপের নামেই পরিচয়

- Advertisement -

চিকন একটি দেহ ও লম্বা গলা তার। ঠোঁটও লম্বা, সরু ও সুচালো। দেখতে যেন অবিকল চাকুর মতো। এটি আসলে একটি পাখি। পাখি হয়েও তার পরিচয়ের সঙ্গে রয়েছে সাপের নামটি। এ পাখির নাম ‘সাপপাখি’।
পাখিটির বাংলা নাম সাপগলা, সাপপাখি, গয়ার বা রাগা। ইংরেজি নাম Darter। এর বৈজ্ঞানিক নাম Anthinga melanogaster।

আসলে এরা Anthinga melanogaster গোত্রের অন্তর্ভূক্ত একটি জলচর পাখি। এদের লেজ অনেকটা ঝাড়ুর মতো দেখতে। পা খাটো। পায়ের পাতা বড়। সাঁতারের জন্য চারটি আঙুল পর্দাদ্বারা যুক্ত। এদের দেহের তলদেশ জ্বলজ্বলে কালো । ঘাড় মুখমণ্ডল কাপড়ের মতো চকলেট-বাদামি বর্ণের। থুতনি ও গলা সাদা। চোখের পিছন দিক থেকে শুরু করে গলার নিচের দিকে অর্ধেক পর্যন্ত সরু সাদা টান আছে। এদের ঠোঁট দুই রঙের। উপরি ভাগ কালচে-বাদামি ও নিচের অংশ হলুদ। পা ও পায়ের পাতা কালো বর্ণের। এদের মাথা, ঘাড়, কাঁধের উপরি অংশ বাদামি।

পৃথিবীতে দুই প্রজাতির সাপপাখি দেখা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে এক প্রজাতির সাপপাখির বসবাস।

সাপপাখির মূল খাবার মাছ। অগভীর পানিতে ডুব দিয়ে এরা চিকন লম্বা ঠোঁটের আঘাতে শিকার করতে অভ্যস্ত। খাদ্য তালিকায় প্রয়োজনে ছোট ছোট সাপও খেয়ে থাকে। সাঁতার কাটার সময় এর সরু গলা ও মাথা পানির উপরে ভাসিয়ে রাখে। দেখতে অবিকল সাপের মতো লাগে।

শিকার শেষে নদী বা বিলের ধারে খুঁটিতে বসে বিশ্রাম করে। বিশ্রামের সময় এদিক-ওদিক গলা ঘুড়িয়ে দেখে। এদের গলা অনেক লম্বা ও খাটো করার সামর্থ্য রাখে। শিকার শেষে পানি থেকে উঠে খুঁটির উপর বসে দুই ডানা প্রসারিত করে ভেজা পালক রৌদ্রে শুকায়।

জুন থেকে ডিসেম্বর মাস এদের প্রজনন কাল। এ সময় মেয়ে পাখিকে আকর্ষণ করার জন্য চিগ, চিগ, চিগ শব্দে বারবার ডাকতে থাকে। পানির ধারে বড় বড় গাছে ডালপালা দিয়ে বাসা বানায় এরা। নিজেদের বানানো বাসায় ডিম পাড়ে। ডিমগুলি সবুজ-নীলাভ হয়। এরা তিন থেকে ছয়টি ডিম পাড়ে। সাপপাখি সচরাচর নদী, হাওর, বিল, পুকুর ও বড় বড় জলাশয়ে বিচরণ করে।

বেশিরভাগ সময় একা থাকে। অনেক সময় জোড়া বা বিচ্ছিন্ন ঝাঁকেও দেখা যায়। যেহেতু বড় বড় মাছের ঘেরে এদের বিচরণ তাই এদের আহারের সামান্য কয়টা মাছ রক্ষার জন্য ঘেরমালিকরা এদের শিকার করে। শিকারীদের অত্যাচারে এদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। সাপপাখি বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি। আমাদের দেশে এরা সংকটাপন্ন বলে বিবেচিত।

রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের হাওর বা বিলের পানিতে এদের বেশি দেখা যায়। আমাদের দেশ ছাড়াও আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত, পকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এদের বিচরণ ক্ষেত্র।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles