-11.7 C
Toronto
সোমবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২২

এ ফাদার্স ডায়েরি’র ওয়ার্ল্ডপ্রিমিয়ার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে

- Advertisement -
চলচ্চিত্রটি দেশ-বিদেশের মিডিয়া এবং চলচ্চিত্র উৎসবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে

২০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (DIFF) ‘সিনেমা অফ দ্য ওয়ার্ল্ড সেকশন’-এ ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান পরিচালক গোলাম মোস্তফার পূর্ণ্য দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “এ ফাদার্স ডায়েরি”-এর। ৭০টি দেশের ২২০টি চলচ্চিত্রের সাথে ১৫-২৩ জানুয়ারী ২০২২ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা করছে “এ ফাদার্স ডায়েরি”।

চলচ্চিত্রটি দেশ-বিদেশের মিডিয়া এবং চলচ্চিত্র উৎসবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। “এ ফাদার্স ডায়েরি” মুক্তির ০২ মাসের মধ্যেই চলচ্চিত্র উৎসবে আমেরিকা ও ইন্ডিয়াতে ক্রাউনউড, কোলকাতা কাল্ট, টগোর, ড্রুক, গ্যাংটক ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, গোল্ডেন আর্থ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড এবং অ্যাফ্রোডাইট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসহ ১১টি সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছে। অনাড়ম্বর কাহিনী, গল্পের নিপুণ গাঁথুনী, হৃদয় ছুঁয়ানো গান, মন মাতানো সঙ্গীত এবং আশ্চর্যজনক সিনেমাটোগ্রাফি দিয়ে চলচ্চিত্রটিকে অসাধারণভাবে অলংকৃত করা হয়েছে।

- Advertisement -

গল্পটি আমাদের বর্তমান সমাজের ক্রমবর্ধমান সমস্যাগুলির উপর ভিত্তি করে তৈরি। বাংলাদেশী এবং ইতালীয় বংশোদ্ভূত দিনা ও ইসাবেলা সবচেয়ে ভালো বন্ধু এবং প্রতিবেশী; তাদের বাবা হাসান এবং মার্কোর মধ্যেও দারুণ বন্ধন রয়েছে। তারা তাদের কন্যা দিনা এবং ইসাবেলাকে একসাথে বড় করেছে এবং কঠিন সময়ে একে অপরকে সমর্থন করেছে। মেয়ে দিনার কাছে যখন প্রিয় বন্ধু ইসাবেলা জীবন সঙ্গীর চেয়েও বেশি হয়ে ওঠে তখন একজন স্নেহময় এবং প্রতিরক্ষামূলক পিতা হাসান পরিবর্তন মানিয়ে নিতে অস্বীকার করে যা তার পরিবারের জন্য এক ভহয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে। যদিও পরিবর্তনশীল সময়ের সাথে খাপ খাওয়ানোর প্রতিবন্ধক মেয়ে দিনা এবং স্ত্রীর প্রতিও হাসানের ভালবাসা প্রশ্নাতীত।

কানাডিয়ান বানজাই মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ছবিটি ৪টি দেশে শুটিং করা হয়েছে যা কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের অসাধারণ নৈসর্গিক রূপ ধারণ করেছে। পরিচালক ঢাকা শহরের সন্নিকটে আলালপুর গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নান্দনিকভাবে ক্যামেরা বন্দী করেছেন; যেখানে পরিচালক মোস্তফা তার শৈশব কাটিয়েছেন। চলচ্চিত্রটিতে গল্প বলার ধরণ এবং দুটি ভিন্ন ভূমি – বাংলাদেশ এবং কানাডাকে দেখানোর একটি অনন্য এবং মনোরম বৈসাদৃশ্য রয়েছে যা দর্শকদের মুগ্ধ করবে। মায়ের ভালবাসা এবং বাংলাদেশের একটি মিষ্টি সবুজে গ্রাম আলালপুরকে ঘিরে পরিচালক মুস্তফার লেখা শান্তিনিকেতনে কম্পোজ করা “কি শোভা মোর সবুজ গাঁয়ে” ও “ঘুম ঘুম ঘুম” দুটি গান শ্রোতাদের হৃদয় স্পর্শ করবে।
কাস্টিং ডিরেক্টর ইমন শাই এবং জোনাথন রাবসন প্রতিটি চরিত্রের জন্য অভিনেতা এবং অভিনেত্রীদেরকে সুদক্ষ ভাবে বাছাই করেছেন। গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস করেন চলচ্চিত্রের জন্য কাস্টিং সমালোচনামূলক। তিনি উল্লেখ করেন যে “আমি প্রতিটি শিল্পীকে সম্মান ও প্রশংসা করি কিন্তু তাদের জনপ্রিয়তায় প্রভাবিত হই না, আমি সম্ভাবনা ও প্রতিভাসম্পন্ন অভিনেতাদের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।” আপনি জেনে অবাক হবেন যে, এ ছবিতে বাংলা চরিত্রে অভিনয়কারী অভিনেতারা বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং পটভূমি থেকে এসেছেন। আফরোজ খান (হাসান), দীপা খন্দকার (মা), নিধী ধারা (দিনা) এবং মুস্তাকিম মাহিন (তরুণ হাসান) এর হৃদয়স্পর্শী অভিনয় দর্শকদের মন্ত্র-মুগ্ধ করবে এবং দর্শকদের প্রতিটি ফ্রেমে আবদ্ধ করবে। পরিচালক কম সংলাপ ব্যবহার করে প্রচুর অভিব্যক্তি এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে সুন্দর গল্প বলার একটি আশ্চর্যজনক নমুনা তৈরি করেছেন। সংলাপগুলি খুবই সাবলীল এবং বেশিরভাগই ইংরেজি এবং বাংলার সংমিশ্রণে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী হারমোনিকা বাদক “শিভাং শাস্ত্রী” এর বাজানো একটি হৃদয়স্পর্শী হারমোনিকা পুরো মুভি জুড়ে শ্রোতাদের সুরের তরঙ্গে ডুবিয়ে রাখবে। মুভিটিতে চমকপ্রদ সুর, বহুমুখী যন্ত্র এবং মধুর কণ্ঠ ভরা হৃদয়স্পর্শী ছয়টি মূল বাংলা ও ইংরেজি গান রয়েছে। গোলাম মোস্তফা উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর গুণী সুরকার ও সাউন্ড ডিজাইনারদের সাথে গানের কথা ও স্পটিং নোট লেখার পাশাপাশি ঢাকা, মুম্বাই, কলকাতা, লন্ডন, নিউইয়র্ক, লস এঞ্জেলস-এর প্রতিভাধর
কণ্ঠ ও যন্ত্রশিল্পীদের সাথে প্রতিদিন রিমোটলি কাজ করা ছিল এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

সামগ্রিকভাবে, এটি একটি উঁচু মানের বাংলা-ভিত্তিক ইংরেজি হলিউড মুভি যা আকর্ষণীয় সঙ্গীত, গান, সাউন্ড ডিজাইন, লোকেশন, এডিটিং, কালার গ্রেডিং এবং সিনেমাটোগ্রাফিসহ বেশ দক্ষতার সাথে প্যাকেজ করা হয়েছে যা দর্শকদের মুভির শেষ দৃশ্য পর্যন্ত মন কাড়বে । প্রযোজক আনোয়ার কায়সার এবং ইয়াসির শেখ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল সার্কিটের ঠিক পরেই উত্তর আমেরিকা, বাংলাদেশ, ভারত এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একযোগে “এ ফাদার্স ডায়েরি” এর শুভ মুক্তির প্রতীক্ষায় আছেন।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যালের পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল সবাইকে ১১৩ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি ১৫-২৩ জানুয়ারী ২০২২ তারিখ “সিনেমা অফ দ্য ওয়ার্ল্ডসেকশনে” দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles