15.3 C
Toronto
বুধবার, মে ২৫, ২০২২

ফেনসিডিল কিনতে গেলে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় ডা. মুরাদকে

- Advertisement -

ফেনসিডিল কিনতে গেলে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় ডা. মুরাদকে - The Bengali Times

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) শাখা ছাত্রদলের ১৯৯৬-৯৮ কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন সদ্য সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান।

- Advertisement -

সে সময় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মুরাদ। যা খুশি তাই করতেন। মদ্যপ অবস্থায় দেখা গিয়েছিল তাকে বেশ কয়েকবার। ফেনসিডিলের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন।

ফেনসিডিলে এতোই আসক্ত ছিলেন তিনি যে, মাদক কিনে টাকা না দিলে একদিন গাছের সঙ্গেও তাকে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটে।

মুরাদের বিষয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ।

আবু ওয়াহাব আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুরাদ হাসান ময়মনসিংহে ছাত্রদল করতেন। সে সময় তিনি নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বাগমারা এলাকায় তাকে মদ্যপ অবস্থায় দেখা যেত তাকে। ফেনসিডিল সেবন করতেন, যা সবারই জানা ছিল। তিনি যেখান থেকে ফেনসিডিল নিতেন, একদিন সেখানে গেলে ফেনসিডিল কেনার টাকা না দেওয়ায় (পয়সার অভাবে) তাকে বিক্রেতারা হাত-পা বেঁধে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছিল।’

বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুই আমলেই সুবিধাভোগী নেতা ও ক্যাডার ছিলেন মুরাদ।

এ তথ্য দিয়েছেন’৯৮-র মমেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও মমেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মুরাদের এক ব্যাচ সিনিয়র ডা. মো. ইসহাক।

সাবেক এ ছাত্রদল নেতা বলেন, ১৯৯৩ সালে এম-৩০ ব্যাচে মুরাদ হাসান এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯৬ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। মুরাদ হাসান এতে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে ৫ থেকে ৬ মাস দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ছাত্রদল থেকে পদত্যাগ করে ছাত্রলীগে যোগদান করেন তিনি।

২০০০ সালে মমেক ছাত্রলীগের সভাপতিও হন ডা. মুরাদ।

ছাত্রদলের এমন একটি পদ থেকে পল্টি নিয়ে কীভাবে ছাত্রলীগ নেতা হয়ে গেলেন মুরাদ?

এ বিষয়ে মমেক ২৯তম ব্যাচের ছাত্র ডা. বিজয় কুমার পাল বলেন, ডা. মুরাদের পিতা ছিলেন জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। মুরাদকে পদে আনতে চারদিক থেকে আমাদের ওপর চাপ ছিল। সে ছাত্রদল নেতা জানা সত্ত্বেও অনেকটা বাধ্য হয়েই আমরা তাকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বানিয়েছি।

এদিকে জানা গেছে, মন্ত্রী হয়ে বেপরোয়া আচরণ আরো তীব্র হয় ডা. মুরাদের। নিজস্ব স্টাফদের উঠতে-বসতে গালি, কাপ-প্লেট ছোড়া, চড়-থাপ্পড় দেওয়া ছিল সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের নিত্যদিনের কাজ। এসব কারণে স্টাফদের বেশির ভাগ সদস্যই মন্ত্রণালয় ছেড়ে চলে গেছেন।

তার বাবুর্চি পদে ২০১৯ সালের ১৯ মে যোগ দিয়েছিলেন তার আত্মীয় ফরহাদ হোসেন তরফদার।

কিন্তু অত্যাচারে টিকতে না পেরে বছর ঘুরার আগেই বিদায় নিয়েছেন টিম থেকে।

বুধবার যুগান্তরকে ফরহাদ হোসেন বলেন, ডা. মুরাদের দুর্ব্যবহারের কারণে টিকতে পারিনি সেখানে। তিনি আমার আত্মীয়, বয়সে ছোট আমার। নিজেদেরই তো ভাই, কী আর করা।

ডা. মুরাদের দুর্ব্যবহার থেকে রেহাই পাননি মসজিদের ইমামও। প্রথমে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বেইলি রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে উঠেছিলেন ডা. মুরাদ। এর পাশেই সুগন্ধা জামে মসজিদ।

সেখানে জুমার নামাজ পড়তে গেলে সালাম না দেওয়ায় ইমামকে গালাগাল করেন মুরাদ।

ইমাম কেন বয়ান থামিয়ে তাকে সালাম দেননি, এজন্য তাকে গালাগাল শুনতে হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মসজিদ কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, জুমার পরের দিন ইমামকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠান ডা. মুরাদ। এ তথ্য জেনে মসজিদ কমিটির সদস্যরাও সেখানে যেতে আগ্রহী হন। সবাই ভাবেন, প্রতিমন্ত্রী হয়তো মসজিদের উন্নয়নমূলক কোনো কাজের কথা বলবেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে গালাগালের সম্মুখীন হওয়ায় সবাই তাজ্জব বনে যান। আসলে এটা এমন একটা বিষয়, যা নিয়ে কথা বলা যায় না। দয়া করে এ বিষয়ে আর প্রশ্ন করবেন না।

সূত্র : নতুন সময়

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles