
মার্কিন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প রসিকতার ছলে ট্রুডোকে “কানাডার গভর্নর” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন, তার সঙ্গে আবারও ডিনারে বসা দারুণ হবে। এই মন্তব্য কানাডার বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর তা প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সাংবাদিকদের বলেছেন, “ট্রাম্প অন্তত ট্রুডোর কথা ভাবছেন এটাও এক ধরনের ইতিবাচক ইঙ্গিত। আমি এটিকে সম্ভবত সুসম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখি। তবে এখন মূল বিষয় হলো বাণিজ্য চুক্তি। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে কী প্রস্তাব আনে এবং আমরা তা থেকে কী সিদ্ধান্ত নেব, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।”
ফোর্ড আরও স্পষ্ট করেছেন, যদি ট্রাম্প প্রশাসন কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করে, তবে কানাডাও সমপরিমাণ ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষা করব। আমেরিকা যদি আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, আমরা সমান শক্তি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাব।”
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, যদি কানাডা ও মেক্সিকো সীমান্ত নিরাপত্তায় কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে তাদের রপ্তানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো বলেছিলেন, “এ ধরনের শুল্ক কানাডার অর্থনীতিকে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে ফেলবে। দেশের প্রতিটি কমিউনিটি এতে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে।” ট্রুডো আরও যোগ করেছেন, ট্রাম্পের এই পদ্ধতি মূলত দর-কষাকষির ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল।
ট্রুডো স্মরণ করিয়ে দেন, পূর্বে যখন ট্রাম্প ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তখন কানাডা কৌশলগত ও হিসাবি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেছেন, এবারও সরকার একইভাবে সুসংহত ও কার্যকর প্রতিরোধের পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, “আমরা এখনো প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় আছি। তবে এক কথা স্পষ্ট— কানাডা তার নাগরিক ও ব্যবসার স্বার্থ রক্ষা করবে।”
অন্যদিকে, ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, তার প্রস্তাবিত শুল্ক আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দিতে রাজি নন। এর ফলে মার্কিন ভোক্তাদের ওপরও আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা কেবল দুই নেতার ব্যক্তিগত মন্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়, ফলে শুল্ক আরোপের মতো সিদ্ধান্ত সরাসরি কানাডার অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের রসিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন একটি গুরুতর কূটনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিয়েছে। ফোর্ডের শক্ত অবস্থান এবং ট্রুডোর সতর্ক বার্তা দেখাচ্ছে, আসন্ন দিনগুলোতে কানাডা-আমেরিকা সম্পর্ক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে যে কোনো সিদ্ধান্ত দুই দেশের অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদরা দু’দেশের পরবর্তী পদক্ষেপকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।

