কুইবেক সরকারের টেকসই বিনিয়োগ নৈতিক অর্থনীতির পথে নতুন উদ্যোগ

কুইবেক সরকারের টেকসই বিনিয়োগ নৈতিক অর্থনীতির পথে নতুন উদ্যোগ - the Bengali Times
কুইবেক সরকার সম্প্রতি এক বিস্তৃত দূর্গম সম্প্রচার অর্থনীতি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে যার লক্ষ্য প্রদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ উদ্ভাবন এবং দায়বদ্ধ অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া

কুইবেক সরকার সম্প্রতি এক বিস্তৃত “দূর্গম সম্প্রচার অর্থনীতি রোডম্যাপ” ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য প্রদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং দায়বদ্ধ অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া। সরকার জানিয়েছে, এই রোডম্যাপ কেবল স্থানীয় উন্নয়নকে উৎসাহ দেবে না, বরং বৈশ্বিক পর্যায়ে টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কুইবেককে নেতৃত্বের অবস্থানে তুলে দেবে।

রোডম্যাপটি তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত: পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, এবং দায়বদ্ধ অর্থনৈতিক নীতি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে প্রদেশের টেকসই খাতে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। বিনিয়োগের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি, সবুজ অবকাঠামো এবং সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ ব্যবসায়িক প্রকল্প।

- Advertisement -

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ যখন মারাত্মক হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে, তখন কুইবেকের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। প্রদেশের মোট শক্তি উৎপাদনের প্রায় ৯৫ শতাংশই বর্তমানে জলবিদ্যুৎ থেকে আসে, তবে শিল্পখাতে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার অন্তত ৩০ শতাংশ কমানো হবে।

উদ্ভাবন ক্ষেত্রেও সরকারের গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ ভর্তুকি প্রদান করা হবে যাতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং প্রয়োগ বৃদ্ধি পায়। বিশেষভাবে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং পরিচ্ছন্ন শক্তি সংরক্ষণ খাতে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে গবেষণা ও উদ্ভাবনে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।

দায়বদ্ধ বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও কুইবেক সরকার স্বচ্ছ কাঠামো তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সব সরকারি প্রকল্পে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক হবে। একইসঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ বিনিয়োগ (এসআরআই) তহবিল গঠনে উৎসাহ দেওয়া হবে। বর্তমানে প্রদেশের মোট বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর মাত্র ১৮ শতাংশ সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ প্রকল্পে রয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

শিল্পপতিরা এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। কুইবেক চেম্বার অব কমার্সের মুখপাত্র এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেছেন, “এই রোডম্যাপ আমাদের ব্যবসাকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে টেকসই প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনই ভবিষ্যতের মূল চালিকা শক্তি।”

তবে সমালোচকরাও কম নেই। বিরোধীদলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, সরকার আগে যেসব পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল, সেগুলো বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন রোডম্যাপও সঠিক নজরদারি ছাড়া কেবল কাগজে-কলমেই সীমিত থাকতে পারে।

পরিবেশ আন্দোলনকারীরা পরিকল্পনাটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এক পরিবেশ কর্মী বলেন, “শুধু বড় প্রকল্প নয়, স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাহলেই প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব হবে।”

কুইবেক সরকারের ঘোষিত এই রোডম্যাপ প্রদেশকে টেকসই উন্নয়ন ও নৈতিক অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ। বাস্তবায়িত হলে কুইবেক শুধুমাত্র কানাডাতেই নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সফলতার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, স্বচ্ছতা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles