-17 C
Toronto
শুক্রবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২২

সেই মেয়র আব্বাস আলী ঢাকার ইশা খাঁ হোটেল থেকে আটক

- Advertisement -
জাতির পিতার ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে কটূক্তি করা কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী আটক হয়েছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে রাজধানীর ইশা খাঁ হোটেল থেকে আটক করেছে র‍্যাব। আজ বুধবার র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি ইমরান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে রাজধানীর ইশা খাঁ হোটেল থেকে আটক করা হয়েছে।

- Advertisement -

এএসপি ইমরান খান আরও জানান, রাজধানীর ইশা খাঁ হোটেলটি ঘিরে রাখা হয়েছে। অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুসও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি মেয়র আব্বাসকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। ঢাকা থেকে তাকে রাজশাহীতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে।’

জানা গেছে, গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন পৌর মেয়র আব্বাস আলী। সোমবার রাতে লিটন নামে তার একান্ত সহকারীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেয়া হয়। তার দে‌ওয়া তথ্যে মেয়র আব্বাসকে আটক করা হয়েছে। লিটনের মাধ্যমে মেয়র আব্বাস এলাকায় যোগাযোগ রক্ষা করছিল বলেও জানা গেছে।

গত ২২ নভেম্বর রাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মোমিন নগরের বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। রাতেই সেই মামলা রেকর্ড করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

এরপর গত ২৬ নভেম্বর বিকেলে অজ্ঞাত স্থান থেকে ফেসবুক লাইভে তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তি দেয়। প্রায় ২০ মিনিটের ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন এক বড় হুজুরের আপত্তির কারণে এসব মন্তব্য করেছিলেন।

গত ২১ নভেম্বর রাত থেকে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে পৌর মেয়র আব্বাসের কটূক্তিমূলক বক্তব্যের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপে মেয়র আব্বাসকে বলতে শোনা যায়, কাটাখালীতে সিটি গেটটি দ্রুত নির্মাণ হবে। তবে আমরা যে ফার্মকে কাজটি দিয়েছি, তারা গেটের ওপরে বঙ্গবন্ধুর যে ম্যুরাল বসানোর ডিজাইন দিয়েছে, সেটি ইসলামি দৃষ্টিতে সঠিক না। এটি করলে পাপ হবে। তাই আমি সেটিকে বাদ দিতে বলেছি।

এছাড়াও অপর একটি অডিওতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে নিয়েও অশালিন বক্তব্য দেয়। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলাসহ জেলা ও কাটাখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিকে সুপারিশ করে জেলা আওয়ামী লীগ।

এদিকে, বিতর্কিত এই মেয়রকে ধরিয়ে দিতে এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন ওই পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর খোকনুজ্জামান মাসুদ। সোমবার রাতে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর খোকনুজ্জামান মাসুদ পুরস্কার ঘোষণার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করে চরম অন্যায় করেছেন। এ জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। সে পৌর মেয়র হওয়ার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তার দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে অতিষ্ঠ পৌরবাসী।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির পর কাপুরুষের মতো গা ঢাকা দিয়েছেন মেয়র আব্বাস। তাই তাকে ধরার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছি।

সূত্র : আমাদের সময়

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles