হুইপপুত্র শারুনের বিরুদ্ধে এবার ধর্ষণচেষ্টা মামলা

- Advertisement -

হুইপপুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। নিজ প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাজধানী ঢাকায় এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এই মামলা করা হয় ( মামলা নাম্বার-১৫৫/২০২১)। ধর্ষণের ঘটনায় গত ১০ নভেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এ মামলাটি করেন ভুক্তভোগী এক নারী। মামলার বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক বেগম মাফরোজা পারভীন। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগ, শারুন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ফেসবুকে যোগাযোগের একপর্যায়ে তাঁকে নিজের কম্পানিতে চাকরির প্রলোভন দেন শারুন। নির্দেশনানুযায়ী গত ২ নভেম্বর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে শারুনের কার্যালয়ে যান তিনি। অভ্যর্থনা কক্ষে যাওয়ার পর তাঁরে সরাসরি শারুনের কক্ষে পাঠানো হয়। সেখানেই জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শারুনের কক্ষে গিয়ে কাগজপত্র দেখাতে চাইলে শারুন এসবের কোনো প্রয়োজন নেই জানিয়ে বলেন, ‘কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই, তুমিই যথেষ্ঠ।’ এ কথা বলে তাঁকে জড়িয়ে ধরে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করার চেষ্টা করেন শারুন চৌধুরী। এ সময় তাঁকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বুঝে তিনি শারুনের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তাঁকে ওই কক্ষের সোফায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন শারুন। এ সময় তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন। তাতে ব্যর্থ হয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তবে কোনমতে ওই কক্ষ থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরেন তিনি।

- Advertisement -

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, এই মামলার আসামী শারুন বাদীনির সঙ্গে প্রতারণা করে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন, যা নারী ও শিশু নির্যতন দমন আইনের ৯(৪)খ ধারা অনুযায়ী অপরাধ। এ অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে তারা আদালতের দারস্থ হওয়ায় পরামর্শ দেয়। ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দাখিল করা হয়েছে। নাজমুল করিমের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার ঘটনা জানার পরে, তার দ্বারা নির্যাতিত অনেক নারীই এখন মুখ খুলতে চাইছেন। কেউ কেউ মামলারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

- Advertisement -

চট্টগ্রামের পটিয়ার নাজমুল করিম চৌধুরী এর আগেও নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে সমালোচিত। এর আগে তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি, বিনামূল্যে দেয়া সরকারি করোনা ভ্যানসিন জালিয়াতি করে বিক্রি, সুদের ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলাও আছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নাজমুল করিমের বাবা বিচ্ছু সামশু টাইপ রাইটার মেশিন চুরি করে চট্টগ্রাম কারাগারে ছিলেন। এলাকার চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে পটিয়ার মানুষ ছিলো অতিষ্ট। সেই বিচ্ছু সামশুর ছেলে বাবার চেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। ব্যাংকার মোর্শেদ হত্যার নেপথ্যের কারিগর নাজমুল করিম এখন ছিনতাই, চাঁদাবাজি আর মাদক ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। চাকরি দেয়ার নামে নারীদের ধর্ষণ করতেও ছাড়ে না। এই কুলাংগারের বিচার না হলে সে সাধারণ মানুষের আরামের ঘুম হারাম করে ফেলবে।

পটিয়ার কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ক্ষুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, শুধু ঢাকাতেই নয়-চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চট্টগ্রাম এবং পটিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে শারুন চৌধুরী ফাঁদে ফেলে অনেক নারীর সর্বনাশ করেছেন। অনেকেই শারুন ও তার ক্যাডার বাহিনীর হুমকিতে মুখ খুলতেও ভয় পান। তবে ঢাকার নির্যাতিত নারীকে স্যালুট জানাই অন্তত সাহস করে শারুনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। শারুনের মতো ছিচকে সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দাবী করেন তারা।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles