22.3 C
Toronto
শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০২৪

মেয়ের পরকীয়ার বলি সাবেক এমপির স্ত্রী সেলিমা খান

মেয়ের পরকীয়ার বলি সাবেক এমপির স্ত্রী সেলিমা খান
সেলিমা খান

ঢাকার সাভারের নিজ বাড়িতে ১৩ বছর আগে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সামসুদ্দোহা খান মজলিসের স্ত্রী সেলিমা খান মজলিস। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। সেই সময়ে আলোচিত এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে ঘটনার এতদিন পর এসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিজের বড় মেয়ে শামীমা তাহের পপির পরকীয়ার বলি হয়েছেন সেলিমা খান মজলিস।

নিজের পরকীয়ার কথা জেনে যাওয়ায় প্রেমিক সুবলকে সঙ্গে নিয়ে পেশাদার খুনিদের মতো মাকে হত্যা করেন পপি। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে পপি, তার প্রেমিক সুবল এবং বাড়ির গৃহকর্মী আরতি সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আরও কয়েকজন জড়িত বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। তারা আছেন নজরদারিতে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

- Advertisement -

তিনি বলেন, নিহত সেলিমা খান মজলিসের মেয়ে পপির সঙ্গে ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করা সুবল নামে এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রির পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্ক পপির স্বামী ও তার মা জেনে যাওয়ায় পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সুবলকে সেই বাড়িতে যেতে নিষেধ করা হয়। ঘটনার দিন ভোরে ফজরের নামাজের সময় সেলিমা খান মজলিস বাড়ির ছাড়ে উঠেছিলেন এবং সেখান থেকে দেখতে পান সুবল চুপিচুপি তার বাড়ির দিকে আসছে। এটা দেখে চিৎকার করতে করতে তিনি নিচে নামছিলেন। তখন সুবল ও পপি সেলিমা খানের চিৎকার থামাতে ওপরে যান। চিৎকার থামানোর জন্য পপি জাপটে ধরেন মাকে। একপর্যায়ে পাশে থাকা ফল কাটার চাকু দিয়ে তার গলার দুই পাশে তিনটি পোঁচ দেন। এরপর যখন তারা দেখেন সেলিমা খান জীবিত আছেন, তখন সুবল ইলেকট্রিক বোর্ড ভেঙে সেখান থেকে দুটি তার বের করেন সেলিমা খানের মাথায় ইলেকট্রিক শক দেয় মৃত্যু নিশ্চিত করতে। ঘটনাটি ঘটে রান্নাঘরে। কিন্তু সেলিমা খানকে শোবার ঘর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সম্পদ নিয়েও বিরোধ ছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

মায়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে গ্রেপ্তার পপি বেশ কয়েকবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দৌড়ঝাঁপও করেছিলেন। পপিরা চার বোন, দুই ভাই। ঘটনার সময় দেশের বাইরে ছিলেন সেলিমার মেজো মেয়ে ইলোরা খান মজলিস। তার মায়ের হত্যার পেছনে বোনের পরকীয়া সম্পর্ক ও সম্পদসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার মায়ের মৃত্যুর আগে এ সংক্রান্ত কোনো কিছু তিনি আমাদের বলেননি। পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে তাই দেখলাম। আমরা আগে এমন কিছু জানতাম না।’

ইলোরা ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক। বাবা ছিলেন সাভার জেলা আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা ও সংসদ সদস্য। সেই হিসেবে এমপিকন্যা ইলোরা মনে করেন, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগসাজশ আছে। খতিয়ে দেখলে বিষয়টি উঠে আসবে।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গৃহকর্মী আরতি সরকারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘আরতি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জানিয়ে স্বীকারোক্তি দেবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে আদালতে নেওয়ার পর সে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে।’

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles