26.6 C
Toronto
রবিবার, জুলাই ২১, ২০২৪

শৃঙ্খলায় পড়ে গেছি

শৃঙ্খলায় পড়ে গেছি
খুব জটিল শৃঙ্খলায় পড়ে গেছি

খুব জটিল শৃঙ্খলায় পড়ে গেছি। এরকম তো কোনোদিন হয়নি? বিষয়টা হলো- আমার খিদেও লাগছে, আবার পেটও ভরা। কোনটাকে প্রাধান্য দেবো?

রাত বারোটার দিকে মাথায় জটিল প্রশ্নের জটলার কূল-কিনারা না পেয়ে বাইরের ঘরে পায়চারি করতে করতে আকাশে ঐ দূর-দিগন্তে তারার দিকে চেয়ে বুকের মধ্যে হাহাকার করে উঠলো। চাঁদের জমি নিয়েও তাহলে কাড়াকাড়ি শুরু? এখন চাঁদ, পরে হবে মঙ্গোল গ্রহ নিয়ে। পৃথিবীর হচ্ছেটা কী? আবার টি-২০ বিশ্বকাপ নিয়েও টেনশন।
.
চিন্তিত মুখে রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের হাঁড়ি চুলোয় বসিয়ে ফ্রিজ থেকে পায়েস, কেটে রাখা তরমুজের বক্স বের করে কাঁটা চামচ হাতে খবরের সামনে বসলাম। তরমুজটা বেশ মিষ্টি। এবার তরমুজের দামও কম। এই বক্স শেষ না করে বাকি অর্ধেকটা কাটাও যাচ্ছে না। নতুন কেনা তো দূরের কথা..। সামনে কোরবানির ঈদ। ফ্রিজ ফাঁকা করতে হবে। পায়েস সাবাড় না করলে গিন্নি ঈদে নতুন করে বানানোর আগ্রহ পাবে কীভাবে?

- Advertisement -

ওগুলা শেষ হতেই ‘টিং’ শব্দে আসা টেক্সট খুলে দেখি গিন্নি। লিখেছে- চান্দু একটু দেখো তো ওভেনের মধ্যে দই বসায়ছিলাম, জমছে কী না?

আমি দেখে এসে লিখলাম, জমছে মানে! সিমেন্টের মতো শক্ত!
– সেদিনের মতো ঐটা আবার বানাতে পারবা?
– অফকোর্স!
– বানাও। গল্পটা শেষ করে আসছি, আর দশ পৃষ্ঠা..।
রুহ আফজা দিও। মিষ্টি আছে না?
– একটা আছে
– অর্ধেক করে দিও।

এই সুযোগে কাজে লেগে যাই।

ওভেন খুললেই আমার শুধু পিজার কথা মনে পড়ে। ফ্রিজ থেকে শুঁটকি ভর্তার ছোট্ট কৌটা, মোজারেলা চিজ, পিজা সস আর হাতে বানানো বিরাট সাইজের মোটাসোটা একটা রুটি বের করি। রুটি ঠিক অবশ্য না; এটা দিয়ে গিন্নি পিজা বানিয়ে ছেলে-মেয়েদের দেয়। রুটির ওপর দুই কোয়া রসুন থেঁতলে মাখিয়ে নিয়ে আঁঠালো চিংড়ী শুঁটকি ভর্তা স্প্রেড করে টমেটো সস দিয়ে ঢেকে দু-মুঠো মোজারেলা চিজ ছিটিয়ে ৩৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ওভেনে ঢুকিয়ে দিলাম। শুঁটকি তলায় দেবার শানে নুযুল হলো গন্ধ যেন না ছড়ায়। এতো রাতে গন্ধ ছড়ালে ছেলে-মেয়ে দুজন ৯১১-এ কল করে পুলিশ ডাকার সমূহ সম্ভাবনা।
.
মিনিট দশেক লাগবে গিন্নির গল্পের দশ পৃষ্ঠাও শেষ হতে। দুই বাটিতে পর্যাপ্ত পরিমানে মিষ্টি দই নিয়ে তাতে ডালিম ভেঙে এক মুঠো করে দিয়ে কিছু শুকনা কিসমিস, শুকনা ব্লু-বেরি, শুকনা ক্র্যান-বেরি দিয়ে মাখিয়ে উপরে কাজু বাদাম ছড়িয়ে, অর্ধেক করে সাদা রসগোল্লা দিয়ে রুহ আফজা ছিটালাম।

রং যা আসছে মাইরি!

গিন্নি নেমে এসে পিজার উপর চাট মশলা, ম্যাগি তেতুল সস ছিটিয়ে নিখুঁতভাবে ছয়ভাগে কেটে ফেলল। আমরা ট্রে হাতে বাইরের ঘরে বসি। পিজায় কামড় দিয়ে বলল, খাসা! নতুন রেসিপি?

– হু
– ফ্রুটস-দইও মারাত্মক। তোমার না ভেড়ার ভুরি দিয়ে পিজা খাওয়ার শখ?
– হু
– কালকেই ভুড়ি রাঁধবো। এতো চিন্তিত মনে হচ্ছে কেন চান্দু?
– আর বইলো না, চাঁদের জমি নিয়েও আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ইন্ডিয়া কাড়াকাড়ি শুরু করতেছে
– বলো কি! জাতিসংঘ কী বলে?
– জাতিসংঘ তো বলতেছে চাঁদ সবার। কিন্তু আমেরিকা শুনবে?
– চা খাইছো?
– রং চা খাইছিলাম
– জটিল আলোচনায় রং চা দিয়ে কিচ্ছু হবে না।- বলে সে রান্নাঘরের দিকে ছুটলো।

আরেক ভুল করলাম।
পিজা আগে খাওয়া ঠিক হয়নি। পরে মিষ্টি ফ্রুটস-দই খেয়ে এখন চা খেয়ে যুৎ পাবো না। চায়ের মিষ্টি টেরই পাওয়া যাবে না। তাই বেইজমেন্ট গিয়ে বাক্স খুলে একটা ঝাল চিপসের প্যাকেট এনে মালাই চায়ের অপেক্ষায় থাকি।

গিন্নি এসে চায়ের কাপ দিতে গিয়ে আমার মুখের দিকে চেয়ে বলল, আবার কী!
– বুঝতেছি না; পেট টুপটুপে ভরা, আবার খিদেও যাচ্ছে না। ওদিকে ঘুম লাগতেছে, কিন্তু ঘুম আসতেছে না!
– সেকি! এ কেমন কথা?
আমরা কুড়মুড়িয়ে চিপস চিবিয়ে, চায়ে চুমুক দিতে দিতে মহাবিশ্বের যত সব জটিল আলোচনা চালিয়ে যাই..

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles