19.4 C
Toronto
রবিবার, জুন ২৩, ২০২৪

মরদেহ কিমা করে ১০০ গ্রামের প্যাকেট করা হয়, নৃশংস হত্যার পুরো বর্ণনা

মরদেহ কিমা করে ১০০ গ্রামের প্যাকেট করা হয়, নৃশংস হত্যার পুরো বর্ণনা

ঝিনাইদহের-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার নৃশংস বর্ণনা দিয়েছেন রিমান্ডে থাকা কসাই জিহাদ। এ তথ্য শুনে তদন্তকারী কর্মকর্তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন। এমপি আনারকে হত্যার পর মাংসগুলো ৫০ থেকে ১০০ গ্রাম করে কুচি কুচি করা হয় বলে জানিয়েছেন জিহাদ।

- Advertisement -

পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, সোমবার জিহাদকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে কীভাবে আনারকে হত্যা ও মাংসগুলো খন্ডিত করা হয়েছে তা তিনি অভিনয় করে দেখিয়েছেন। আনারের দেহ থেকে প্রথমে মুন্ডু, পরে শরীরের প্রতিটি অংশ থেকে মাংস ও হাড় আলাদা করা হয়। সেগুলোকে ছোট ছোট টুকরো বা কার্যত ‘কিমা’ বানানোর বিস্তারিত বিবরণ পাক্কা ৪০ মিনিট ধরে তদন্তকারীদের জানান জিহাদ।

কোন জায়গায় দেহাংশ রাখা হয়েছিল এবং প্যাকেট কীভাবে করা হলো, সেটিও তুলে ধরেন জিহাদ।

পুরো বিষয়টি ভিডিও রেকর্ডিং করেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

নিউ টাউনের ফ্ল্যাট থেকে ভিডিও কলে ধরা হয় বাংলাদেশ পুলিশের হেফাজতে থাকা আমানুল্লা, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল সাজিকে। জিহাদের দেওয়া তথ্যগুলোর সঙ্গে আমানুল্লার বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আনার হত্যাকাণ্ডে মামলার বাংলাদেশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা গতকাল সকালে কলকাতার সিআইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন।

সিআইডির কর্মকর্তারা ডিবির কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, কসাই জিহাদ হাওলাদার তাদের জানিয়েছেন, আনারের মাংসগুলো টুকরো টুকরো করার পর ওজন মাপার মেশিন দিয়ে মাপা হয়। এ তথ্য পেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা অনেকটা হতভম্ব হয়ে পড়েন। তারা সিআইডিকে বলেছেন, বাথরুমে মাংস কাটার পর কিছু টুকরো কমোডের ভেতর দিয়ে ফ্ল্যাশ করেছেন। আর এ কারণে নিউ টাউনের ঐ ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংকিতে তল্লাশি চালাতে হবে। পুলিশের এ প্রস্তাবে সিআইডির কর্মকর্তারাও সায় দেন।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে নিউ টাউনের সঞ্জিভা গার্ডেনের ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংক থেকে মাংসের দলা উদ্ধার করেছে বাংলাদেশের ডিবি পুলিশ ও কলকাতার সিআইডি। তবে দলাটি আনারের লাশের খন্ডিত অংশ কি না, তা ফরেনসিক প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, গতকাল দিনভর সঞ্জিভা গার্ডেনের সেপটিক ট্যাংকি ও স্যুয়ারেজ লাইন ভাঙা হয়। সেখানে মানুষের মৃতদেহের অংশসাদৃশ কিছু বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা সেটা পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছি। তারা ডিএনএ পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেবে। রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। ঐ ফ্ল্যাটে তিনটি কমোড রয়েছে, সেগুলো ফ্ল্যাশ করলে ময়লা যেখানে জমা হয় এবং যে স্যুয়ারেজ লাইন, সেটি ভাঙতে পরামর্শ দিই। পরে সে অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংকি খোলা হয় এবং স্যুয়ারেজ লাইন ভাঙা হয়।

সূত্র : ডেইলি বাংলাদেশ

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles