যে কারণে মহাকাশ ছেড়ে পালাচ্ছেন নভোচারীরা

- Advertisement -
নভোচারীরা: প্রতীকী ছবি

রাশিয়া মহাকাশে বড় বিপদ ডেকে এনেছে। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র মহাকাশে আতঙ্ক সৃষ্টি করায় মহাকাশচারীদের প্রাণ বাঁচাতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ছেড়ে পৃথিবীতে ফেরার জন্য অপেক্ষারত মহাকাশযান।

রাশিয়া ঘোষণা না দিয়ে নীরবে ভূপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। গত সোমবার পরপর চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর আঘাতে কয়েক মিনিটের মধ্যে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা একটি কৃত্রিম উপগ্রহ। ভেঙে পড়া প্রায় ৪০ বছর বয়সী উপগ্রহ থেকে দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে ছিটকে বেরনো বড় ও মাঝারি রাশি রাশি টুকরো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে মহাকাশে। রাশি রাশি টুকরো কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করতে শুরু করে দেয় ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি গতিবেগে।

- Advertisement -

ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। একটু হলেই পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আঘাত লাগত।

হিউস্টনে নাসার মিশন কন্ট্রোল রুম থেকে খবর পেয়ে মহাকাশচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে মহাকাশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে সাতজন মহাকাশচারীই চেপে বসেন পৃথিবীতে ফিরে আসার জন্য অপেক্ষারত মহাকাশযানে। সেখানেই আশ্রয় নিতে বাধ্য হন মহাকাশচারীরা। যাদের মধ্যে রয়েছেন আমেরিকা, জাপান ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (এসা)-র মহাকাশচারীরা।

- Advertisement -

জানা যায়, ওই ঘটনা ঘটেছে রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘রসকসমস’-এর উপগ্রহ বিধ্বংসী পরীক্ষা (‘ডাইরেক্ট অ্যাসেন্ট অ্যান্টি-স্যাটেলাইট টেস্ট (ডিএ-এস্যাট)’-র জন্য। চার দশক আগে পৃথিবীর কক্ষপথে একটি উপগ্রহ পাঠিয়েছিল রসকসমস। সেই উপগ্রহটির নাম ছিল ‘কসমস ১৪০৮’। সাবেক সোভিয়েত জামানায় উপগ্রহটিকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হয় বিভিন্ন দেশের ওপর গোয়েন্দাগিরির জন্য। যদিও কয়েক দশক আগেই কার্যকালের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়ে অচল হয়ে যায় উপগ্রহটি।

- Advertisement -

আমেরিকার বিদেশ দপ্তর ও নাসার অভিযোগ, উপগ্রহটিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে উড়িয়ে দেওয়ার আগে সেই কর্মসূচির কথা আমেরিকা, ভারত, জাপান, চীন বা ইউরোপের কোনো দেশের মহাকাশ সংস্থাকেই জানায়নি রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমস। এই ঘটনা আগামী দিনে মহাকাশে বিভিন্ন দেশের পেশী প্রদর্শন ও সমরসম্ভার পাঠানোর গোপন প্রস্তুতিতে আরও উৎসাহিত করবে। উৎসাহিত করবে উপগ্রহ বিধ্বংসী উপগ্রহ ও মহাকাশ যুদ্ধে খুব প্রয়োজনীয় লেসার রশ্মির অস্ত্রশস্ত্র বানাতে। তাই এ ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নাসা। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আমেরিকার বিদেশ দপ্তরও।

আমেরিকার বিদেশসচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে এই পরীক্ষা করেছে রাশিয়া। ওই ঘটনায় এখনই কক্ষপথে দেড় হাজারেরও বেশি মহাকাশ আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রি তৈরি হয়েছে। সেগুলো বেশ বড় ও মাঝারি আকারের। আগামী দিনে সেগুলোর ধাক্কাধাক্কিতে টুকরোগুলোর সংখ্যা আরও বাড়বে। তা বিভিন্ন মহাকাশযানের যাতায়াত ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের পক্ষে খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠল। তার ফলে অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও বিজ্ঞান গবেষণা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা জোরদার হলো।’

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রধান বিল নেলসন বলেছেন, ২০১৯ সালে এমন একটি পরীক্ষা করেছিল ভারত। ২০০৭ সালে চীনও করেছিল এমন একটি পরীক্ষা। দুটি দেশকেই সতর্ক করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে এ জাতীয় একটি পরীক্ষার পর আমেরিকা আর এ পথে হাঁটেনি। এবার রাশিয়ার এই পরীক্ষার পর আবার সবকটি দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাকে বিষয়টি নিয়ে অবিলম্বে আলোচনার বাস্তবতা বুঝিয়ে দিল।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles