18.2 C
Toronto
মঙ্গলবার, মে ২১, ২০২৪

বিদেশী শক্তির চক্রান্ত

বিদেশী শক্তির চক্রান্ত
একটি অবাধ নিরপেক্ষ এবং সকল দলের অংশগ্রহণে সম্পুর্ন ভয়ভীতিহীন পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা এখন বাংলাদেশের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

একটি অবাধ নিরপেক্ষ এবং সকল দলের অংশগ্রহণে সম্পূর্ণ ভয়ভীতিহীন পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা এখন বাংলাদেশের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে নির্বাচনে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে, ভোট দেবার আগে নিজেরা নিজেরা প্রার্থীদের ভাল মন্দ নিয়ে মুক্ত পরিবেশে কথা বলতে পারবে। এই ধরনের নির্বাচন দেশ ও দেশের সকল দলের জন্যেই মংগল বয়ে আনবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে কী হয় আসুন লক্ষ্য করিঃ

১। বিদেশী শক্তির চক্রান্ত বন্ধ হয়

- Advertisement -

২। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বৈদেশিক সাহায্য বা ঋণ গ্রহণে দরকষাকষি করতে পারে, ফলে কেনাকাটায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে, দুর্নীতি কমে এবং কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়

৩। সরকারী নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দলীয় আজ্ঞাবহ অযোগ্য লোকের পরিবর্তে যোগ্যতর লোক অধিষ্ঠিত হয় এবং দেশের মানুষ উপকৃত হয়।

৪। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভার উন্নয়নমুলক প্রকল্পগুলোতে দলীয় ভবঘুরে লোকের পরিবর্তে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে বাছাই করে যোগ্যদেরকে নিয়ে বিশেষ করে জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে প্রকল্প কমিটি গঠন সম্ভব হয় ফলে জবাব দিহিতা সৃষ্টি হয় এবং দুর্নীতি রোধ হয়, সরকারী টাকার সাশ্রয় হয়, সেই টাকা দিয়ে নুতন আরো প্রকল্প নেয়া সম্ভব হয়।

৫। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হয়, সমাজের সর্বস্তরে জবাবদিহিতা তৈরী হয়। বিশেষ করে জনপ্রতিনিধিদের মনে একটা ভয় তৈরী হয় যে তাকে আবারও জনগণের কাছে ফিরে যেতে হবে এবং ভোট চাইতে হবে, অতএব খারাপ কাজ করা যাবে না।

৬। নমিনেশন বাণিজ্য বন্ধ হয়। জনগণের সাথে সম্পর্কহীন দুর্নীতিবাজ কোন ব্যক্তিকে কেন্দ্র টাকা খেয়ে নমিনেশন দিলেও কাজ হয় না, ফলে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জনমত যাচাই করে নমিনেশন দিতে বাধ্য হয়।

৭। সংসদ সদস্যরা এলাকার উন্নয়নে পক্ষপাতিত্ব বন্ধ করতে বাধ্য হয়। কারণ জনগণ সবকিছুই দেখে এবং আমলনামা দেখে ভোট দিতে পারে এই চিন্তায় এমপি সাহেবরা এলাকার সুষম উন্নয়ন করতে বাধ্য হয়।

৮। নিরপেক্ষ নির্বাচনে গঠিত সরকার নির্বাচনের পরদিন থেকেই জনকল্যাণে মনযোগ দিতে পারে, বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবেলা করতে সময় ও প্রশাসনকে ব্যবহার করতে হয় না, পেশী শক্তি, গুন্ডা হোন্ডা পালতে হয় না, শান্তি সমাবেশ করে অশান্তি সৃষ্টি করার দরকার হয় না।

৯। পুলিশ প্রশাসন বিরোধী দলের মিছিল মিটিং করার অধিকার দমন করার কাজে সময় নষ্ট না করে প্রকৃত আইন শৃংখলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে মনযোগ দিতে পারে।

১০। সরকারী আমলারা সরকারী দলকে তুষ্টতা ও জনপ্রিয়তা রক্ষার পরিবর্তে দেশের উন্নয়নে মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহারে মনযোগী হতে পারে।

১১। দলীয় লোকজনের লুটপাটের আখড়া বানানোর পরিবর্তে দেশের হাট ঘাট সরকারী বিধি মোতাবেক ইজারা দেয়া সম্ভব হয় ফলে হাট ঘাট থেকে আয়কৃত কোটি কোটি টাকা দেশের নুতন নুতন রাস্তাঘাট ও মানব সম্পদ উন্নয়নে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

১২। বিদেশী মিশনগুলোতে যোগ্য লোক পদায়িত হয় ফলে বিদেশে দেশের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ মনযোগ দেয়া সম্ভব হয়, দুতাবাসগুলো দলীয় আজ্ঞাবহ লোকের পরিবর্তে প্রবাসের মেধাবী ও দক্ষ লোকগুলোর মিলনমেলায় পরিনত হয়।

এরকম আরো হাজারটা কারণ দেখানো যাবে যা কেবলমাত্র দেশে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেই সম্ভব হয়। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলো গনতন্ত্র, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা কায়েমের প্রথম পদক্ষেপ।

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles