23.8 C
Toronto
বুধবার, মে ২২, ২০২৪

পানির খোঁজে চাঁদে নামছে রাশিয়ার মহাকাশযান

পানির খোঁজে চাঁদে নামছে রাশিয়ার মহাকাশযান

মহাশক্তিধর সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর মহাকাশ দৌড়ে অনেকখানি পিছিয়ে পড়েছিল রাশিয়া। মহাকাশে প্রথম স্যাটেলাইট, প্রথম প্রাণী, প্রথম পুরুষ ও প্রথম নারী পাঠানোর কৃতিত্ব দেখিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। তবে একসময় মহাকাশ অভিযানের নেতৃত্ব দিলেও সোভিয়েত ভাঙার পর সেই নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছিল না বর্তমান রাশিয়া। অবশেষে প্রায় ৪৭ বছর পর প্রথমবারের মতো চাঁদে অবতরণযোগ্য মহাকাশযান পাঠিয়েছে মস্কো। উদ্দেশ্য, চাঁদে পানির অন্বেষণ করা।

- Advertisement -

শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে এ অভিযান পরিচালনা করছে রাশিয়া। রুশ বিজ্ঞানীদের ধারণা, চাঁদের এ অংশে বরফ ও পানি রয়েছে। এ অভিযানের মধ্য দিয়ে মহাকাশ অভিযানে আবারো নেতৃত্ব দেওয়ার পথে অগ্রসর হতে চায় রাশিয়া। ১৯৭৬ সালের পর এটিই দেশটির প্রথম কোনো চাঁদে অভিযান।

সেই সময় মহাকাশ দৌড়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে এরপর বদলে গেছে বিশ্ব। প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছে চীন ও ভারতও।

গত মাসেই ভারত চন্দ্রযান-৩ রকেট পাঠিয়েছে চাঁদে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও চাঁদের দক্ষিণ মেরুর উদ্দেশ্যে মহাকাশ অভিযানের পরিকল্পনা করছে। তবে তাদের আগেই চাঁদের ওই অঞ্চলে লুনা-২৫ নামের মহাকাশযান পাঠাল রাশিয়া।

দেশটির স্থানীয় সময় রাত ২টা ১১ মিনিটে মস্কো থেকে ৫ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভস্তোচনি কজমোড্রোম মহাকাশ কেন্দ্র থেকে এ অভিযান শুরু হয়। লুনা-২৫ মহাকাশযানকে বহনকারী একটি সইয়ুজ ২.১ ভি রকেট চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রুশ মহাকাশ সংস্থা রসকসমস নিশ্চিত করেছে, যাত্রার প্রায় ১ ঘণ্টা পরে এ মহাকাশযান পৃথিবীর কক্ষপথ পাড়ি দিয়ে চাঁদের দিকে রওনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে- মহাকাশযানটি আগামী ২১ আগস্ট চাঁদে অবতরণ করবে। রুশ মহাকাশ সংস্থার প্রধান ইউরি বরিসভ সেই ঘোষণাই দিয়েছেন।

বরিসভ কজমোড্রমের কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এখন আমরা ২১ আগস্টের অপেক্ষা করব। আমি আশা করি খুবই নিখুঁতভাবে মহাকাশযানটি চাঁদে অবতরণ করতে পারবে। লুনা-২৫ অভিযানের ওপর রাশিয়া বেশ বড় আকারের বাজি ধরেছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত বিধিনিষেধ, যার অনেকগুলোই রুশ উড়োজাহাজ ও মহাকাশ খাতের বিরুদ্ধে- সেগুলো রুশ অর্থনীতির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। এ অভিযান সেটিই প্রমাণ করেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles