14.1 C
Toronto
রবিবার, মে ২৬, ২০২৪

নরেন্দ্র মোদির সমালোচনায় বিশেষ শব্দ ব্যবহার, কেন?

নরেন্দ্র মোদির সমালোচনায় বিশেষ শব্দ ব্যবহার, কেন?
<br >ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

মণিপুরে দুই নারীকে নগ্ন করে ঘোরানো ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে ভারতে। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মণিপুর ইস্যু উঠলেই একটি বিশেষ শব্দ ব্যবহার করে চলছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা।

যারা সরাসরি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাইছেন না তারা ব্যবহার করছেন ওই বিশেষ শব্দটি। ইংরেজি ওই শব্দটি হলো ‘Whataboutery’। কিন্তু এর অর্থ কী, কেনই বা সমালোচনায় আচমকা এই শব্দের ব্যবহার?

- Advertisement -

অভিধানে এর অর্থ লেখা হয়েছে ‘the technique or practice of responding to an accusation or difficult question by making a counter-accusation or raising a different issue’। সোজা বাংলায় যার অর্থ— ‘একটি পাল্টা অভিযোগ করে বা একটি ভিন্ন সমস্যা উত্থাপন করে কঠিন অভিযোগ বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কৌশল।’

মণিপুরের ভয়াবহ জাতিগত সহিংসতা নিয়ে নিয়ে দীর্ঘ আড়াই মাস নীরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তার দল বিজেপি। সম্প্রতি মণিপুরে দুই নারীকে প্রকাশ্যে নগ্ন করে হাটানোর ঘটনা সামনে আসে। এতে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা ভারত। বাদল অধিবেশন শুরুর আগে এমন ঘটনা অস্বস্তিতে ফেলে বিজেপিকে। মুখ খুলতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘আমি সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, মা-বোনেদের রক্ষার জন্য কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা কায়েম রাখুন, ঘটনা রাজস্থানের হোক বা ছত্তীসগড়ের কিংবা মণিপুরের হোক…।’

তার এই বক্তব্যকেই ‘whataboutery’ বলে সমালোচনা করছেন অনেকে। সমালোচকরা বলছেন, নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারের কাছে মানুষ যখন মণিপুর নিয়ে জবাব চাইছে, তখন তিনি রাজস্থান ও ছত্তীসগড়ের ঘটনাকে টেনে এনে তা এড়াতে চাইছেন।

অনেক সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও ইতিহাসবিদ বলছেন, সর্বভারতীয় রাজনীতিতে এই ‘whataboutery’ কৌশল অনেকেই অবলম্বন করেছেন। তবে নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকার গত ৯ বছরে এ ক্ষেত্রে রীতিমত ‘মাইলফলক’ গড়েছেন। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বারবার তারা কংগ্রেস আমল এবং সোনিয়া গান্ধী থেকে ইন্দিরা গান্ধী, জহরলাল নেহেরু থেকে মনমোহন সিংয়ের মতো কংগ্রেস নেতাদের প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন।

ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ বলেন, ‘ভারতবর্ষের গণতন্ত্রের জন্য কংগ্রেসের টিকে থাকাটা জরুরি। কিন্তু গান্ধী পরিবারকে কংগ্রেসের সর্বময় ক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। নইলে যতদিন গান্ধী পরিবার কংগ্রেসের ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন বিজেপি কিছু ঘটলেই বলবে, ইন্দিরা গান্ধীর সময় এই হয়েছিল, নেহেরুর সময় ওই হয়েছিল।’

প্রবীণ সাংবাদিক বীর সাংভির বলেন, ‘যারা মণিপুরের ওই নৃশংস ঘটনার জন্য দায়ী তারা অধমের থেকেও অধম। আর যারা বিষয়টা অন্য দিকে ঘোরাতে চাইছেন, তারাও অধমদের থেকে কোনো অংশে কম নন।’

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles