26.4 C
Toronto
মঙ্গলবার, মে ২১, ২০২৪

সোমবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আসবেন অভিযুক্ত দুই ছাত্রী

সোমবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আসবেন অভিযুক্ত দুই ছাত্রী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিটির ডাকে সোমবার ক্যাম্পাসে আসবেন অভিযুক্ত দুই ছাত্রী। অভিযুক্ত ওই দুই ছাত্রী হলেন- ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী তাবাসসুম ইসলাম।

- Advertisement -

হাইকোর্টের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা হল ছাড়েন। তদন্ত কমিটির কাছে তাদের সাক্ষাৎকার নিতে হলে আসবেন বলে নিশ্চিত করেছে তদন্ত কমটি।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় কোনো প্রকার কাজ করেনি তদন্ত কমিটি। সোমবার সকাল ১০টায় তারা তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষাৎকার দেবেন। প্রথমে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির কাছে এবং পরে হল কমিটির কাছে সাক্ষাৎকার দেবেন তারা। ক্যাম্পাসে আসলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, ওই দুই ছাত্রী ক্যাম্পাসে আসবেন বলে তদন্ত কমিটিকে নিশ্চিত করেছে। আমরা গেট থেকে তাদের নিয়ে আসব। তদন্ত শেষ করে যতটুক দরকার এগিয়ে দিয়ে আসব। যেভাবে অভিযোগকারীকে রিসিভ করেছিলাম ও এগিয়ে দিয়ে এসেছিলাম। আর নিরাপত্তার ব্যাপারটা আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

এদিকে অভিযুক্ত ও র্যা গিংয়ের ঘটনায় কোনো অভিযোগ থাকলে বেলা ১১টার মধ্যে তা তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। তথ্য-প্রমাণ থাকলে লিখিত আকারে বা সশরীরে জমা দিতে হবে। তদন্তের স্বার্থে ‘উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. রেবা মণ্ডল।

তিনি জানান, তদন্তের কাজ চলমান রয়েছে। আজ কার্যদিবস না থাকায় আমরা সোমবার সকাল ১০টায় অভিযুক্তের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। তাছাড়াও কারো কাছে তথ্য-প্রমাণ থাকলে তদন্ত কমিটির কাছে জমা দিতে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

ছাত্রী হলে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গণরুমের ছাত্রীদের এখনো আতঙ্ক কাটেনি। বাড়ি ফিরে যাওয়া ছাত্রীরা এখনো হলে ফেরেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হলের ছাত্রীদের হলে ফেরাতে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। কিছু সংখ্যক ছাত্রী ভয় উপেক্ষা করে মুখ খুললেও বাকিরা আতঙ্কে মুখ খুলছেন না। অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলের বাইরে থাকলেও তার সহচররা হলে অবস্থান করছেন।

ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় এখনো নিশ্চুপ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সংগঠনগুলো। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন মতাদর্শের অন্তত সাতটি শিক্ষক সংগঠন ক্যাম্পাসে সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রগতিশীল ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন শাপলা ফোরাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিট, জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের জিয়া পরিষদ ও সাদা দল এবং জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের গ্রিন ফোরাম। ঘটনা উচ্চ আদালতে গড়ালে সেখান থেকে পদক্ষেপ এলেও সংগঠনগুলো দলীয় প্যাডে নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

এর মধ্যে জিয়া পরিষদ দায়সারা একটি ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। অন্যদিকে এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের সক্রিয় পাঁচটি ছাত্রসংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছে। এছাড়া জাতীয় মহিলা পরিষদ, মানবাধিকার কমিশন, নারী ও শিশু অধিকার ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ জানায়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তারা শিক্ষকদের আন্তরিকতার ঘাটতির অভিযোগ করেন।

একই সঙ্গে তাদের দাবি, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিষয়গুলোর পরিবর্তে তাদের গ্রুপিং ও রাজনীতির বিষয়ে বেশি মনযোগী বলে মন্তব্য করেছেন।

সূত্র : যুগান্তর

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles