-5.3 C
Toronto
বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৩

পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নারীর বিষপান

পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নারীর বিষপান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পুলিশ জোর করে এক নারীকে আটক করে থানায় আনার চেষ্টাকালে ক্ষোভে পুলিশের সামনেই এক নারী বিষপান করেছে। বর্তমানে ওই নারী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওই নারী হলো উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের আইয়ুব খানের মেয়ে মৌসুমী আক্তার (২৫)।

- Advertisement -

সোমবার সন্ধ্যায় নুরপুর গ্রামে মৌসুমি আক্তারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

মৌসুমি আক্তারের মা শাহানা বেগম হাসপাতাল চত্বরে অভিযোগ করে বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আখাউড়া থানার এএসআই আব্দুল আজিজ মহিলা পুলিশসহ ৮-১০ জন পুলিশ নিয়ে আমার বাড়িতে এসে আমার মেয়েকে জোর করে আটক করে থানায় নিয়ে যেতে চায়। আমার মেয়ে তখন তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করে। সে বলে আমার দুইটা ছেলে আছে, আমার স্বামী পাগল। আমি থানায় যাবো কেন?। এ সময় আজিজ দারোগা বলে ওসি সাহেব তাকে নিয়ে যেতে বলেছে। এ সময় আমি পুলিশকে বলি, আমার মেয়ের হার্টের অসুখ, তাকে নিয়েন না। দরকার হলে আমি থানায় যাবো। এ সময় পুলিশ জোরাজোরি করে আমার মেয়েকে ধরে নিতে চাইলে সে বোরকা পরার কথা বলে ঘরে গিয়ে বিষপান করে।

পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নারীর বিষপান

পরে আমরা মেয়েকে প্রথমে আখাউড়া হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখান স্টমাক ওয়াশ করে চিকিৎসা দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে পাঠায়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা নিয়ে যাই। বর্তমানে আমার মেয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসক ওই নারীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। এসময় আখাউড়া থানার ওসি মো. আসাদুল ইসলামসহ বেশ কয়েক পুলিশ সদস্য উপস্থিত রয়েছে। ওসি নিজে তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। পরে রোগীকে ঢাকায় নেওয়া হলে তখনও থানার এস. আই আবু ছালেক সঙ্গে যান।

এ ব্যাপারে আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. লুৎফুর রহমান বলেন, রোগীর স্টমাক ওয়াশ করে বিষ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আখাউড়া থানার ওসি মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, কিছু মাদক উদ্ধার হয়েছিল। আমাদের কাছে তথ্য ছিল মাদকগুলো তাদের। এর পরিপ্রেক্ষিতে মৌসুমিকে থানায় আনতে আমি পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না বলে তিনি জানান। তার ঘরে কিছু পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, তারপরেও যদি এএসআই আজিজের কোনো অপরাধ থাকে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সূত্র : ঢাকাটাইমস

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles