6 C
Toronto
বুধবার, ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৩

যে তিন ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ব

যে তিন ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ব
ছবি সংগৃহীত

মৃত্যু মানুষের অমোঘ নিয়তি। ২০২২ সালে অনেকেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বছরজুড়ে শোকের তালিকাটাও দীর্ঘ। এ বছরে মৃত্যু হয়েছে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির। বিদায়ী বছরটা বিশ্বের জন্য নানান কারণে বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে বিদায়ী এ বছরে তিনটি দেশে পদদলিত-দুর্ঘটনায় কয়েকশ’ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ব এখনও শোকে স্তব্ধ।

উপচে পড়া ভিড়ে দম বন্ধ হয়ে বা কখনো আতঙ্কের কারণেও অনেকের মৃত্যু হতে পারে। তবে সেই উপচে পড়া ভিড় কত ভয়াবহ হতে পারে, ২০২২ সালে তেমনই কিছু ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব।

- Advertisement -

ইন্দোনেশিয়ায় ‘স্টেডিয়াম ট্রাজেডি’
ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো দর্শক। কিন্তু সেই ম্যাচ দেখতে যাওয়াই যে তাদের জীবনের সবচেয়ে খারাপ মুহূর্ত হয়ে উঠবে, কে জানতো। ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কানজুরুহান ফুটবল স্টেডিয়ামে দর্শকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ এবং পদদলিত হয়ে ১২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় আহত হন আরও শতাধিক। গেল ১ অক্টোবর আরেমা ও পার্সেবায়া সুরাবায়ার মধ্যকার খেলা চলাকালীন পূর্ব জাভার একটি স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।

আরেমা ম্যাচটি ২-৩ ব্যবধানে হেরে যায়। দল হেরে যাওয়ায় হাজার হাজার আরেমাভক্ত মাঠে নেমে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় মাঠে থাকা বেশ কয়েকজন আরেমার খেলোয়াড়ের ওপর হামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন। নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, কয়েক হাজার দর্শক একসঙ্গে স্টেডিয়ামে জোর করে ঢুকে পড়েন এবং এতে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ভিড়ের মধ্যেই পদদলিত হয়ে অনেকে মারা যান। মূলত কাঁদানে গ্যাসের কারণেই এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে পরে এক এক তদন্তে উঠে আসে। মর্মান্তিক এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সরকারি কর্মকর্তা, ফুটবল ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত তদন্তেই এমন তথ্য উঠে আসে। ঘটনার পর স্টেডিয়ামের ভেতরে পুলিশ কেন কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন আর সমালোচনার মুখে পড়ে ইন্দোনেশিয়ান কর্তৃপক্ষ ও ইন্দোনেশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএসএসআই)।
ফিফার নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, কোনো স্টেডিয়ামে দর্শকদের নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া নিষিদ্ধ।

সিউলে হ্যালোইন উৎসবে পদদলিত

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হ্যালোইন উৎসবে হঠাৎ হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় আহত হন শতাধিক। গত ২৯ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে সিউলের ইওংসানগুয়ের ইথেওয়ানের হ্যালোইন পার্টিতে জড়ো হন এক লাখেরও বেশি মানুষ। অনুষ্ঠানে এক তারকা উপস্থিত হয়েছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই শুরু হয় হুড়োহুড়ি। সরু রাস্তায় অতিরিক্ত ভিড়ে চাপা পড়েন অনেকে। পদদলিত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যাওয়ার খবর পেয়ে দ্রুতই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি হতাহতের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পদদলিত হওয়ার পর হৃদরোগ আক্রান্ত হয়েও অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক।

এক ভিডিওতে ইটাওনের রাস্তায় দুর্ঘটনায় মৃতদের লাশ বডিব্যাগে রাখার দৃশ্য দেখা যায়। জরুরি সেবা দানকারীদের এ সময় আহতদের সিপিআর দেয়া ও শরীরের নিচে চাপা পড়াদের উদ্ধার করতেও দেখা যায়। দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। পদদলিত হয়ে কোরিয়ান অভিনেতা ও গায়ক লি জি-হানও মারা যান।

রয়টার্স জানায়, নিহতদের মধ্যে অন্তত দুই ডজন বিদেশি নাগরিক রয়েছে। হ্যালোইন পার্টিতে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেশজুড়ে স্মরণসভার আয়োজন করে দেশটির প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ইওন-সুক-ইওল জাতীয় শোক ঘোষণা করেন।

গুজরাটে মোরবি ব্রিজ ধস

বিদায়ী বছরে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছে ভারত। গুজরাট রাজ্যের মোরবি ব্রিজ ভেঙে পড়ে নারী ও শিশুসহ ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়। ঝুলন্ত সেতুটি ভেঙে পড়ার পর সাঁতরে তীরে ফিরে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেন অনেকে।

গত ৩০ অক্টোবর স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে গুজরাটের মোরবি জেলার মাচ্চু নদীতে হঠাৎ ঝুলন্ত সেতুটি ছিঁড়ে নদীতে পড়ে যান শত শত মানুষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার সময় প্রাণ বাঁচাতে নদীতে লাফিয়ে পড়ছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা। মানুষের আর্তনাদ ও অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে মুহূর্তেই ভারি হয়ে ওঠে ওই এলাকা।

দুর্ঘটনার সময় সেতুটিতে পাঁচ শতাধিক মানুষ ছিল বলে জানা গেছে বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভাড়া করা সংস্থা অজন্তা ম্যানুফ্যাকচারিং প্রাইভেট লিমিটেড নির্ধারিত সময়ের আগেই জনসাধারণের জন্য সেটি উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। যা এ দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারমোরবি শহর কর্তৃপক্ষ এবং অজন্তা ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের মধ্যকার চুক্তি পর্যালোচনা করে বলা হয়, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য সেতুটি কমপক্ষে ৮ থেকে ১২ মাস বন্ধ রাখার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু গুজরাটি নববর্ষ উদযাপনের আগে গেল ২৬ অক্টোবর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় ঔপনিবেশিক যুগের ঐতিহাসিক ওই সেতুটি।

বিদায় নিয়েছে ২০২২ সাল। তবে মর্মান্তিক এসব দুর্ঘটনায় প্রিয়জনদের হারানোর শোক এখনও তাড়া করে ফিরছে পরিবারগুলোকে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles