1.6 C
Toronto
সোমবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৩

নেতাদের সম্পদের হিসাব বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব

নেতাদের সম্পদের হিসাব বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র সংশোধন ও ঘোষণাপত্র প্রণয়নে তৃণমূল নেতাকর্মী ও শুভকাক্সক্ষীদের বাছাই করা ২০টির বেশি প্রস্তাব দলটির আসন্ন জাতীয় সম্মেলনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে গঠনতন্ত্রে একজন নেতা কতটি পদে থাকতে পারবেন তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে নেতাদের সম্পদের হিসাব প্রদান এবং ঘোষণাপত্রে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ থিমের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাব তিনটি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে।

- Advertisement -

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে গঠনতন্ত্র সংশোধন ও ঘোষণাপত্র প্রণয়নের জন্য দলটির পক্ষ থেকে মতামত আহ্বান করা হলে এ প্রস্তাবগুলো আসে। এ বিষয়ে কাজ করছে জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত গঠনতন্ত্র উপকমিটি ও ঘোষণাপত্র উপকমিটি। দুই উপকমিটির একাধিক সূত্রে এ প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিল ২৪ ডিসেম্বর। সম্মেলনকে সামনে রেখে গঠিত সব উপকমিটি তাদের কাজ গুছিয়ে এনেছে। আজ বুধবার উপকমিটিগুলোর শেষ বৈঠক হবে। এর পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির শেষ বৈঠক হবে। এতে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ও গোষণাপত্রে যেসব প্রস্তব এসেছে, সেগুলো উপস্থাপন করে তা অনুমোদন করিয়ে নেওয়া এবং ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পাস করা হবে।

জানা গেছে, সম্মেলনকে সামনে রেখে গঠনতন্ত্র উপকমিটি ও ঘোষণাপত্র উপকমিটি সরাসরি এবং ইমেইলে মতামত আহ্বান করে। গত ১৪ নভেম্বর দলীয় ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত মতামত আহ্বান করা হয় তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্য থেকে। এ দুই মাধ্যমে অনেক প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে বিশটির বেশি প্রস্তাবকে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য আমলে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র উপকমিটির সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমরা জেলা পর্যায়ে তৃণমূলের নেতাকর্মী এবং দেশের সুশীলসমাজ, যারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ, আওয়ামী লীগের শুভাকাক্ষী, সব শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রের ব্যাপারে অনলাইনে তাদের মতামত চেয়েছি। ইতোমধ্যে অনেকে প্রস্তাব দিয়েছেন। সব প্রস্তাব আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি।’ তিনি বলেন, সম্মেলনকে সামনে রাখে অনেক প্রস্তাব এসেছে। তবে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে না। কেন্দ্রীয় কমিটির বলয়ও বাড়বে না। ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিই থাকবে। তিনি বলেন, ঘোষণা পত্রে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ থাকবে এটা প্রায় চূড়ান্ত। তবে এই স্মার্ট বাংলাদেশ মানে অসাম্প্রদায়িক, সুখী-সমৃদ্ধি বাংলাদেশ।

জানা গেছে, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইস আহমেদ পলক আওয়ামী লীগের প্রতিটি কমিটিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণসংযোগবিষয়ক সম্পাদক ও উপকমিটির সম্পাদক পদ সৃষ্টির প্রস্তব করেছেন। এ ছাড়া তিনি ২২তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিতব্য ঘোষণাপত্রে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ অভিযাত্রাবিষয়ক লেখনী অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন।

ইতোমধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিষয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা ইতিবাচক মন্তব্য করেন। আগামী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট ঘোষণাপত্রে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ থিমটি ঠাঁই পাবে বলে তারা নিশ্চিত করেন।

আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক উপকমিটির সদস্য ও ডাটাবেজ টিমের সদস্য নুরুল আলম পাঠান মিলন প্রস্তাব করেছেন, দলের একজন নেতা বা সদস্য সর্বোচ্চ কতটি শাখা কমিটিতে থাকতে পারবেন, তা গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট করে দেওয়া হোক। এ ছাড়া অন্য দল থেকে যোগদানকারীদের সংগঠনের শাখা পর্যায়ের শীর্ষপদে দায়িত্ব পালন ও দলীয় মনোনয়নের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করার কথাও প্রস্তাব করেছেন তিনি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগসহ সব পর্যায়ে এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্পদের হিসাব আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে প্রদান বাধ্যতামূলক করার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করেন তিনি। বিদ্রোহীদের শান্তির বিষয়ে স্পষ্টতা এবং দলের একটি গবেষণা সেলের কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্টতা থাকার বিষয়েও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। মিলন পাঠান দলের ঘোষণাপত্রে জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচনে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কাউন্সিলর এবং জেলা পরিষদ ও ইউনিয় পরিষদের সদস্যদের জন্য নির্বাচনী ওয়ার্ডভিত্তিক অফিস স্থাপন করে জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের কথা ঘোষণাপত্রে সংযোজনের প্রস্তাব করেছেন।

ঢাকার পাশর্^বর্তী একটি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতিটি উপজেলা বা থানায় একটি করে উপকমিটি গঠন করা দরকার। এ ছাড়া জাতীয় শ্রমিক লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মতো স্ব-স্ব সংগঠনের গঠনতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হওয়ার শর্তে জাতীয় মহিলা শ্রমিক লীগকে দলের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন সংগঠনের বর্তমান শীর্ষ নেতারা।

গঠনতন্ত্রের ২০ ধারায় বর্ণিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা ৮১ থেকে ১০১-এ সম্প্রসারণের প্রস্তাব করেছেন খুলনা বিভাগের এক নেতা। তিনি সমাজকল্যাণ সম্পাদকের পাশাপাশি ত্রাণ ও দুর্যোগ মোকাবিলাবিষয়ক সম্পাদক পদে সব ধর্মের প্রতিনিধি থাকার সুযোগের প্রস্তাব দিয়েছেন। জেলা শাখার সব সদস্যকে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের কাউন্সিলর করার কথাও বলেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় কমিটির অনুরূপ জেলা কমিটির বিভাগীয় সম্পাদকদের ৩ থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট উপকমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

স্মার্ট বাংলাদেশের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বলেছেন, আমরা আগামী ৪১’ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। আর সেই বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে আমরা চলে যাব।’ তিনি তরুণদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘২০৪১ সালের সৈনিক হিসেবে তোমাদের স্মার্ট নাগরিক হতে প্রস্তুত হতে হবে।’

সূত্র : আমাদের সময়

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles