-0.9 C
Toronto
শনিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৩

খালেদা জিয়াকে টেনে-হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামানো হয়: প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়াকে টেনে-হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামানো হয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি ভোট চুরি করেছিল বলেই নির্বাচনকে ভয় পায়। আসলে তারা গণতন্ত্রকে ভয় পায়। গণতান্ত্রিক ধারায় ক্ষমতায় যেতে চায় না। ভোটে জিতবে না বলেই তারা এমন কাউকে চায়, যারা নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। কিন্তু গণতন্ত্র আছে বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে।’ আজ রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

- Advertisement -

আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‌‘বিএনপির দুই গুণ, ভোট চুরি আর মানুষ খুন। খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু বাংলার জনগণ তা মেনে নেয়নি, তাকে টেনে-হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামানো হয়। অন্যদিকে তারা আওয়ামী লীগের লাখো নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এ দেশে জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ করেছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার দল কল্যাণে কাজ করে, দেশের জন্য কাজ করে। কিন্তু বিএনপির কাজ হলো মানুষ খুন করা, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে লুটপাট ও অর্থপাচার করা, মিথ্যা কথা বলে বিভ্রান্ত করা। তারা মানুষের শান্তি চায় না।’

আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ ডাকা নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর বিএনপির খুব প্রিয় তারিখ। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর এ দেশে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মিশন শুরু হয়েছিল। সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের হত্যা করা হয়। এ কারণেই এই তারিখ বিএনপির এত প্রিয়।’

এদিন বিকেল ৩টা ০৫ মিনিটে কানায় কানায় পূর্ণ জনসভায় যোগ দেন শেখ হাসিনা। এ সময় মঞ্চ থেকে স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান জ্যেষ্ঠ নেতারা। পরে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের জনসভা থেকে ২৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন চারটি প্রকল্পের। ১১টি মন্ত্রণালয়ের অধীন এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং হওয়ার পথে রয়েছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ব্যয় ৩ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, ‘বিজয়ের মাসে আমি আপনাদের জন্য উপহার নিয়ে এসেছি। ২৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিজয়ের মাসে এগুলো চট্টগ্রামবাসীর জন্য আমার উপহার।’

এ সময় চট্টগ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতাদের স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। করোনার কারণে দীর্ঘদিন সমাবেশ করতে পারিনি। তাই আপনাদের কাছে ছুটে আসলাম। এই স্মৃতিময় চট্টগ্রামে আমরা বারবার ছুটে আসতাম। আমার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যখন জেল থেকে মুক্তি পেতেন আমাদের চট্টগ্রামে বেড়াতে নিয়ে আসতেন। চট্টগ্রামে আসলেই ছুটে যেতাম এম এ আজিজ চাচা, জহুর আহমেদ চাচার বাসায়। এখন তারা নেই। সব স্মৃতি মনে আছে।’

শেখ হাসিনার আগমন ও আওয়ামী লীগের জনসভাকে ঘিরে গত কয়েকদিন থেকে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বন্দরনগর চট্টগ্রামে। জনসভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠান ও আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিতে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ভাটিয়ারীর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে পৌঁছান। সেখানে তিনি ‘৮৩ তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্স’ এর কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে যোগ দেন। জনসভায় শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফিরে যাবেন বলে জানা গেছে।

সূত্র : আমাদের সময়

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles