4.4 C
Toronto
মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৯, ২০২২

‘বৈশ্বিক সংকটে বিরোধী দলগুলো ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে’

‘বৈশ্বিক সংকটে বিরোধী দলগুলো ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে’

মহামারি করোনা ভাইরাসে ও ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে দেশের ক্রান্তিকালের সুযোগ নিয়ে বিরোধী দল অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ক্রান্তিকাল নিয়ে উদ্বেগ দেখা যায় না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের মাঝে ওই উদ্বেগ আমরা দেখিনি। বরং দেখেছি এই সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অশান্ত পরিবেশ কীভাবে সৃষ্টি করা যায় সেটাই যেন তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে।

- Advertisement -

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যখন এমন ক্রান্তিলগ্নে পড়ে, তখন আমাদের যারা বিরোধী দল আছে, আমি সবার কথা বলছি- তাদের মাঝে ওই উদ্বেগ আমরা দেখিনি। বরং দেখেছি এই সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অশান্ত পরিবেশ কীভাবে সৃষ্টি করা যায় সেটাই যেন তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে। এটা করা কি সমীচীন হচ্ছে? সমীচীন হচ্ছে না। তাহলে ওই অনুভূতিটা কোথায়? অনুভূতিটা থাকতে হবে দেশের পথে। দেশপ্রেমটা থাকতে হবে। আজ বিশ্বব্যাপী ক্রাইসিস- এই সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থাকে ঘোলাটে করা আর ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা– এই প্রবণতাটা পরিহার করতে হবে।

এর আগে চুন্নু তার প্রশ্নে বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দায় সব রাজনৈতিক দল নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নেবেন কি না জানতে চান।

এর জবাবে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ঐক্যবদ্ধ শুধু মুখে বললে হবে না। নিজে থেকে পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরা কিন্তু সবাইকে নিয়ে কাজ করি। আমরা যখন উন্নয়নটা করি, কোন এলাকা আমাদের ভোট দিল বেশি, আর কোন এলাকা দিল না, তা বিবেচনা করি না। জনমানুষের জন্য আমাদের উন্নয়ন। গণমানুষের কথা চিন্তা করে আমরা কাজ করি। ঠিক তেমনি দুর্যোগে মোকাবিলায় আমরা বসে থাকিনি। অনেকে তো সমালোচনা করে যাচ্ছেন। বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এক মুঠো চালও দিয়ে বা হাত দিয়ে পানি থেকে কাউকে উদ্ধার করতে দেখিনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময় ঐক্যে বিশ্বাস করি। যারা আসবেন, তাদের সঙ্গে আমরা কাজ করব। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এর আগে শেখ হাসিনা আরও বলেন, যুদ্ধের ভয়াবহতা ও পণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে আমি খোলামেলা কথা বলেছি। যদিও অনেকে আমার সমালোচনাও করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন এভাবে কথা বললে মানুষ ভয় পেয়ে যাবে। ভয় নয়, মানুষকে সতর্ক করার জন্য এটা বলেছি। শুধু সতর্ক নয়, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের মাটি অত্যন্ত উর্বর। আমরা ফসল ফলাব। খাদ্য উৎপাদন করব। আমরা ব্যবহার করব… এবং আমরা সেটা করতে পারি। বাংলাদেশ পারে— আমরা অনেক ক্ষেত্রে এটা বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছি। সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাই শুধু নই, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ কষ্টে ভুগছে। পণ্য পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যেখান থেকে খাদ্য বা তেল কিনতাম, যুদ্ধের কারণে সেখান থেকে কিনতে পারছি না। বিকল্প জায়গা খুঁজে বের করছি। সেখান থেকে যাতে আমরা খাদ্য, ডিজেল, তেল, সার আনতে পারি সেই ব্যবস্থা করছি। এমনকি এলএনজি আমদানির জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং নিয়েছি।

গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সেই সঙ্গে স্যাঙ্কশন। এর ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। সারা বিশ্বের অবস্থাই খুব টালমাটাল। বাংলাদেশ অনেক উন্নত দেশ থেকে এখনো পর্যন্ত ভালো অবস্থায় আছে বলে মনে করি। সবার কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, আমাদের খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। বার বার বলছি এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। যখন বিশ্বব্যাপী খাদ্যের অভাব ও মূল্যস্ফীতি তখন আমাদের দেশে নিজেদের মাটি ও মানুষ নিয়ে চলার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি।

বাজারে কারসাজির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তো আছেই। এই অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজেদের আর্থিক লাভের কথা চিন্তা করে, মানুষের দুর্ভোগের কথাটা চিন্তা করে না। এজন্য তারা অনেক সময় পণ্য লুকিয়ে রাখে এবং কৃত্রিম উপায়ে জিনিসের দাম বাড়ায়। এতে অনেকের ইন্ধনও থাকতে পারে। তবে আমাদের মনিটরিং ব্যবস্থায় তাদের সঙ্গে সঙ্গে খোঁজা হয়, ধরা হয়। ইতোমধ্যে অনেক পণ্য কিন্তু খুঁজে বের করা হয়েছে এবং তা বাজারজাত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের সব সময় সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। কেউ পণ্য লুকিয়ে রেখে মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চলমান থাকবে।

গণফোরামের দলীয় সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থায় ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার চরম আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য দেশের জনসাধারণের জীবনমান স্বাভাবিক রাখতে ও দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বাজারে খাদ্য সরবরাহ পর্যাপ্ত রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে খাদ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলতি ২০২২-২৩ অর্থ-বছরে জি টু জি পদ্ধতিতে ৫ লাখ ৩০ হাজার টন চাল এবং ৬ লাখ ৫০ হাজার মে. টন গম আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। আমদানির লক্ষ্যে ঋণপত্র খোলা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এসব চাল ও গম দেশে প্রবেশ শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৬ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত আছে। নিরাপদ খাদ্য মজুতের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান সচল রাখার প্রয়াসে ২০২২-২৩ অর্থ-বছরে অভ্যন্তরীণভাবে ২২ লাখ ৯০ হাজার টন চাল ও ১ লাখ ৫০ হাজার টন গম সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদেশে বসে অপপ্রচারকারীদের শাস্তি দেবে সরকার

যারা বিদেশে বসে দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে সরকার তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যারা (বিদেশে অবস্থান করে) সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ড, উসকানিমূলক ও বানোয়াট বক্তব্য প্রদানের সঙ্গে জড়িত, সরকার তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।’

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি স্বাগতিক দেশে তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুনাম ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে। তারা স্বাগতিক দেশে অবস্থান করে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে কিছু লোক বিদেশে অবস্থান করে দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং অপপ্রচার মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিতভাবে বাস্তবভিত্তিক সংবাদ ও নিবন্ধ প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কোনো অসত্য ও অপপ্রচারমূলক কিছু প্রকাশিত হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাবলিক কূটনীতি শাখা গণমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ ও বাস্তসম্মত জবাব পাঠায়। যারা অপপ্রচার ছড়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের বানোয়াট ও ভিত্তিহীন পোস্ট মনিটরিং করা হয়ে থাকে।’

সূত্র : ঢাকাটাইমস

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles