5.2 C
Toronto
মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৯, ২০২২

‘পছন্দের ঠিকাদারকে’ কাজ দিতে দরপত্রে অভিনব শর্ত

‘পছন্দের ঠিকাদারকে’ কাজ দিতে দরপত্রে অভিনব শর্ত

পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে অভিনব ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ শর্ত দিয়ে এমএসআর (মেডিসিন ও মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট ক্রয়) দরপত্র আহ্বানের অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে। বিশেষ কোনও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ থেকে দরপত্র প্রক্রিয়ায় ব্যাংক স্থিতি ও অভিজ্ঞতা বিষয়ে অস্বাভাবিক শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

- Advertisement -

এ নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও টেন্ডার কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ঠিকাদার। তবে তত্ত্বাবধায়কের দাবি, ঠিকাদারদের এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২ অক্টোবর কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের এমএসআর দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আগামী ২ নভেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। কিন্তু দরপত্র ক্রয় ও ঠিকাদার নির্ধারণে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যা অসামঞ্জস্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করছেন এমএসআর পণ্য সরবরাহকারী ঠিকাদাররা।

ঠিকাদাররা বলছেন, দেশের কোনও হাসপাতাল এমনকি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় না। এর আগে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালেও এমন শর্ত দেওয়া হয়নি। কিন্তু এবার কয়েকটি শর্ত প্রমাণ করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নিজের পছন্দের কোনও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে এ ধরনের শর্তারোপ করেছেন।

দরপত্রে দেওয়া শর্তের বিষয়ে আপত্তি তুলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স স্বর্ণা এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. সাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘দরপত্রে সংযুক্ত শর্তের ১৯ (ছ) অংশে বলা হয়েছে, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে দরপত্র দাখিলের দিন পর্যন্ত ঠিকাদারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঁচ কোটি টাকা স্থিতি থাকতে হবে। একই ধারার (জ) উপধারায় বলা হয়েছে, হাসপাতালে এমএসআর সামগ্রী সরবরাহে গ্রুপভিত্তিক কাজে গত পাঁচ বছরের মধ্যে কমপক্ষে চার বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তিতে ছয়টি গ্রুপে ভিন্ন ভিন্ন দরপত্র বিক্রয় ও জামানত চাওয়া হলেও সব গ্রুপের জন্য ব্যাংক স্থিতির পরিমাণ একই, অর্থাৎ পাঁচ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এটা বিধিসম্মত নয়। কারণ সব পণ্যের চাহিদার পরিমাণ এক নয় এবং একজন ঠিকাদার সব গ্রুপের দরপত্র নাও কিনতে পারেন। এছাড়া কয়েকটি গ্রুপে এত টাকার পণ্য কখনও কেনা হয় না।’

এই ঠিকাদারের অভিযোগের সূত্র ধরে পার্শ্ববর্তী জেলা লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে একই দরপত্র আহ্বানে গ্রুপভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংক স্থিতি এবং কাজের অভিজ্ঞতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট কাজে গত পাঁচ বছরের মধ্যে তিন বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। হাসপাতালের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জেলার কয়েকটি বিভাগের দরপত্র আহ্বানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষ পিপিআর অনুযায়ী ব্যাংক স্থিতি চাইতে পারেন। তবে তা দরপত্র প্রকাশের পূর্ব থেকে বা দরপত্র প্রকাশের তারিখ থেকে দরপত্র দাখিলের তারিখ পর্যন্ত যেকোনো দিনের মধ্যে হলেই হয়। ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষ ঠিক কবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবেন এবং কোন গণমাধ্যমে প্রকাশ করবেন তা সব ঠিকাদারের জানার কথা নয়।

মেসার্স স্বর্ণা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার মো. সাহাদৎ হোসেন খন্দকার বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক তার আহ্বানকৃত দরপত্রের শর্তে উল্লেখ করেছেন, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে দরপত্র দাখিলের দিন পর্যন্ত সময়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যাংক স্থিতি থাকতে হবে। অর্থাৎ তার আগে থেকে হলেও হবে না, পরে থেকে হলেও হবে না। আমরা কীভাবে জানবো ঠিক কত তারিখে এবং কোন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হচ্ছে? তার মানে কর্তৃপক্ষ কোনও নির্দিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে তারিখ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং ওই ঠিকাদার আগে থেকেই জানেন তার অ্যাকাউন্টে কত তারিখ থেকে টাকা থাকতে হবে। এটা একটা প্রহসনের টেন্ডার প্রক্রিয়া বলে আমি মনে করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাজের অভিজ্ঞতার যে শর্ত দেওয়া হয়েছে তাও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশের কোনও হাসপাতালের ক্রয় প্রক্রিয়ায় এ ধরনের শর্ত দেওয়া হয় না। আমি এসব শর্ত সংশোধন করার অনুরোধ করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর আবেদন দিয়েছি। কিন্তু কোনও সাড়া পাইনি।’

তবে ঠিকাদারদের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহিদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘যে ঠিকাদার কাজ করবেন তাকে অবশ্যই খোঁজ রাখতে হবে কবে কোন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। আমি পিপিআর অনুযায়ী শর্তারোপ করেছি।’

পিপিআরের কোন ধারায় ‘পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে’ কথা উল্লেখ আছে তা জানতে চাইলে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি তত্ত্বাবধায়ক।

কোন পত্রিকায় কবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে তা ঠিকাদাররা আগে থেকে কীভাবে জানবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে ঠিকাদারকে এসব খোঁজ রাখতে হবে।’

ঠিকাদারের দেওয়া অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘আমার কাছে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন মনে হওয়ায় জবাব দেওয়া হয়নি।’

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles