5.6 C
Toronto
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২

হোটেলে বৈঠকে বসতে অসম্মতি, নারীকে গালিগালাজ করা সেই এসআই ক্লোজড

হোটেলে বৈঠকে বসতে অসম্মতি, নারীকে গালিগালাজ করা সেই এসআই ক্লোজড

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে হোটেলে বৈঠকে বসতে অসম্মতি জানালে সেবাপ্রত্যাশী এক নারীকে প্রকাশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক। এর জেরেই গতকাল রোববার রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রতন মিয়াকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

- Advertisement -

জানা যায়, উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সেতারা বেগম নামের এক নারী থানায় অভিযোগ করলে বাজারের রেস্তোরাঁয় বসে তা সমাধানের প্রস্তাব দেন এসআই রতন মিয়া। কিন্তু এতে অস্বীকৃতি জানালে থানায় ডেকে তাকে (নারী) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি।

গত শনিবার সন্ধ্যায় থানার ফটকে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভুক্তভোগী সেতারা বেগম চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আকবর হাজী বাড়ির মৃত আবু বক্কর ছিদ্দিকের স্ত্রী।

ওই নারী বলেন, ‘গত সাত মাস আগে আমার ছেলে নুরনবীকে (২৭) সৌদি আরব নেয় সিরাজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেহের আলী কামলা বাড়ির সৌদি প্রবাসী সাইফুল ইসলাম। এজন্য তাকে চার লাখ টাকাও দেই। কথা ছিল, আবাসিক হোটেলে চাকরি দেবে। বেতন হবে এক হাজার ৮০০ রিয়াল।’

‘কিন্তু আমার ছেলে সেখানে যাওয়ার পর চাকরি না দিয়ে তাকে তিন মাস একটা রুমে রাখে। চাকরি না পেয়ে গত সাত মাস সে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বারবার বলার পরও এক পর্যায়ে আকামা করার জন্য পুনরায় আরও এক হাজার রিয়াল নেয়। পরে প্রতারক সাইফুল আমার ছেলেকে খুরুজ (অস্থায়ী) আকামা দিয়েছে। যেটা দেখে কেউ তাকে কাজ দেয় না’, বলেন সেতারা বেগম।

তার দাবি, ‘এ বিষয়ে গত ১৫-২০ দিন আগে থানায় লিখিত অভিযোগ করি। ওই অভিযোগে সৌদি প্রবাসী সাইফুল ইসলামের মা-বাবা ও স্ত্রীকে বিবাদী করা হয়। অভিযোগটি তদন্ত করার দায়িত্ব পান এসআই রতন মিয়া। সমস্যার সমাধান করতে এসআই রতন আমাদের কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাইলে দুই হাজার টাকাও দেই।’

‘কিন্তু গত শুক্রবার প্রথম বৈঠকে থানায় বিবাদী পক্ষের কেউ আসেনি। দ্বিতীয় বৈঠকে বসার জন্য এসআই রতন বিবাদীদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলে আসেন। তারপর গত শনিবার সন্ধ্যায় এসআই ফোন দিয়ে জানায়, থানায় কোনো বৈঠক হবে না। বৈঠক হবে বসুরহাট বাজারের হক হোটেলে। এ নিয়ে আমি রেস্তোরাঁয় গিয়ে বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানালে এসআই মুঠোফোনে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। তখন মুঠোফোনে আমি বলি, থানায় অভিযোগ করেছি বৈঠকও থানায় হবে। এরপর এসআই আমাকে থানার গেটে আসতে বলেন’, বলেন সেতারা বেগম।

তিনি আরও বলেন, ‘থানার গেটের ভেতরে প্রবেশ করলে পুনরায় সে চিৎকার করে অশ্রাব্য ভাষায় সাধারণ মানুষের সামনে গালমন্দ করেন। যা মুখে বলা যায় না। পরে আমি কাঁদতে কাঁদতে থানা থেকে চলে যাই। একজন মাকে তার ছেলের সামনে প্রকাশ্যে এভাবে দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা গালিগালাজ করতে পারে আমি তা ভাবতেও পারি না।’

জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রতন মিয়া বলেন, ‘ওই নারী থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। তার মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধান করতে চেয়েছিলাম। তবে হোটেলে বৈঠকে না যাওয়ায় রাগের মাথায় একটু উত্তজিত হয়ে ওই নারীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি। তবে ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে শাসানো হয়নি এবং কোনো ধরনের টাকা পয়সার লেনদেন হয়নি।’

এ ব্যাপারে নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসআই রতন মিয়াকে রোববার রাতেই পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র : আমাদের সময়

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles