-0.4 C
Toronto
রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২

যেসব খাবার শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়ায়

যেসব খাবার শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়ায়

মানুষের খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। বেশি শুয়ে বসে থাকার জীবনযাপনে কোলেস্টেরল বাড়ে। অত্যধিক পরিমাণে ধূমপান, অ্যালকোহল পান, জর্দা সেবন, অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাওয়ার খেলে যেকোনো সময় কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। আর কিছু রোগ রয়েছে কোলেস্টেরলের জন্য দায়ী, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি। আর কিছু ওষুধ আছে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

- Advertisement -

কোলেস্টেরল রক্তে থাকা মোম জাতীয় চর্বিজাতীয় তৈলাক্ত পদার্থ। মানবদেহের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। যকৃৎ ও মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কোলেস্টেরল লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। কোলেস্টেরল রক্তে বাড়লে তা জমা হয় রক্তনালীর ভিতর। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক হয়ে যাওয়া হল খুবই জরুরি। কারণ কোলেস্টেরল শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জমতে পারে। এমনকী পায়েও জমতে পারে কোলেস্টেরল। তাই কোলেস্টেরল বাড়ার লক্ষণ পায়েও দেখা যায়।

রক্তে তিন ধরনের লিপোপ্রোটিন দেখা যায়, যেমন—নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লিপোপ্রোটিন (এলডিএল), উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট লিপোপ্রোটিন (এইচডিএল) ও ট্রাই-গ্লিসারাইড। এলডিএল-কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়, কারণ এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণত মানুষের রক্তে শতকরা ৭০ ভাগ এলডিএল থাকে। এইচডিএল-কে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। আর ট্রাই-গ্লিসারাইড চর্বি হিসেবে রক্তের প্লাজমায় অবস্থান করে। ট্রাই-গ্লিসারাইড মানুষের খাদ্যের প্রাণিজ চর্বি অথবা কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি হয়ে থাকে।

কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে অনেক সময়ে কমলা চাকা চাকা দেখা দেয় ত্বকে। সাধারণ র‌্যাশের মতো নয়। কিছুটা হলদেটে ভাব থাকে। বিশেষ করে চোখের উপরে দেখা যায় এই ধরনের ফোলা ভাব।

অনেক সময়ে আবার মোমের মতো ফোলা ভাব দেখা দেয় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে। হাত কিংবা গলায় এমন দাগ দেখে অনেকেই অ্যালার্জি ভাবতে পারেন। কিন্তু তা নয়। কাছে গেলেই বোঝা যায়, এর মধ্যে তেলতেলে ভাব আছে আবার হঠাৎ কিছু দিনের জন্য লালচে ভাব দেখা দেয় ত্বকে। তা আবার সেরেও যায় দিন কয়েকের মধ্যে।

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে অনেক সময় রক্তনালি আটকে যায়। তখন মস্তিষ্কের রক্ত চলাচলে বাধা পড়ে। এতে ঘাড় ও মাথার পিছনে ভীষণ ব্যথা হয়। শুধু মাথাতেই নয়, ঘাড়েও অস্বস্তিকর ব্যথা হয়।

কিছু খাবার শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। জেনে নিন খাবারগুলো কী কী।

তৈলাক্ত ও ভাজা খাবার
ক্যালোরি, ট্র্যান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত লবণ থাকে তৈলাক্ত ও ভাজা খাবারে। এগুলো নিয়মিত খেলে বাড়ে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি।

অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার
আইসক্রিম, কেক, পেস্ট্রি সব কিছুতেই উচ্চ কোলেস্টেরল, চিনি, অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রচুর ক্যালোরি থাকে। এগুলি বেশি খেলে ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যানসার হতে পারে।

জাঙ্ক ফুড
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে দূরে থাকতে হবে ফাস্ট ফুড বা জাঙ্ক ফুড থেকে। এগুলো নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে শরীরকে।

আরও পড়ুন :: নারীদেহে পুরুষ হরমোন বেশি হলে যেসব সমস্যা হয়ে থাকে

প্রসেসড মিট
সসেজ বা এই ধরনের প্রসেসড মাংস খাবেন না। এগুলো কেবল বাজে কোলেস্টেরলই বাড়ায় না, কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

ডেজার্ট
আইসক্রিম, কেক, পেস্ট্রি সব কিছুতেই উচ্চ কোলেস্টেরল, চিনি, অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রচুর ক্যালোরি থাকে। এগুলি বেশি খেলে ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সার হতে পারে।

নারিকেল তেল
নারিকেল তেল খাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। এই তেল শরীরের জন্য খারাপ। এই তেলে রয়েছে স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এবার দক্ষিণের দিকে এই তেল খুব ব্যবহার হয়। এই তেল ব্যবহার করলে কিন্তু তা জমবে রক্তনালীর ভিতর। এবার এই বিষয়টি মাথায় রাখার চেষ্টা আপনাকে করতেই হবে। নইলে সমস্যা বাড়বে।

​পাম তেল
পাম তেলের দাম অনেকটাই কম। তাই প্রচুর মানুষ এই তেল খেয়ে থাকেন। এবার দেখা গিয়েছে যে এই তেল খেলে শরীরে সমস্যা তৈরি হয়ে যেতে পারে। এমনকী শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিতে পারে পাম তেল। তাই এই তেল খাওয়া আজই বন্ধ করুন। এতে সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

​বাদাম তেল
বাদাম তেল অনেকে পছন্দ করেন। যদিও এই তেল কিন্তু শরীরে ক্ষতি করে দেয়। তাই একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে বাদাম তেল খেলে জমতে পারে খারাপ কোলেস্টেরল। তার থেকে শরীরে গুরুতর সমস্যা হতে পারে। এমনকী বনস্পতি খাওয়াও খুবই খারাপ।

​মাখন
মাখন এটা তেল নয়, মাখন হল স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এই ফ্যাট খুব সহজেই সমস্যা তৈরি করে। তাই মাখন খাওয়া ছাড়তে হবে আপনাকে। একটু বয়স বাড়লেই মাখন খাবেন না আর। কারণ এর থেকে সমস্যা তৈরি হয়ে যায়। এবার এটা মাথায় রাখুন।

মেয়োনিজ
মেয়োনিজ বহু খাবারে ব্যবহার করা হয়। তবে দেখা গিয়েছে এই খাবার খেলে শরীরে সমস্যা হতে পারে। এমনকী এলডিএল কোলেস্টেরল শরীরে অনেকটাই বাড়ে। তাই এই খাবার থেকে আপনাকে দূরে থাকতে হবে।

কোলেস্টেরল থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খান তেল। তবেই ভালো থাকতে পারবেন। অবশ্য খেতে পারেন সানফ্লাওয়ার, অলিভ এই ধরনের তেল। এমনকী সরষের তেলও খাওয়া যায়।

কোলেস্টেরল কমায় যেসব খাবার
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য ওটস, বার্লি, গম, ভুট্টা, বিনস, বেগুন ও ঢেঁড়শ, বাদাম, আপেল, আঙুর, স্ট্রবেরি, বিভিন্ন লেবু, বিভিন্ন ধরনের ফল-শাকসব্জি নিয়মিত খেতে হবে। সয়া, সয়া থেকে তৈরি খাবার যেমন সয়াবিন, টফু এবং সয়া দুধ খাওয়া খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাছ, যেমন স্যালমন, টুনা, সারডিন ইত্যাদি মাছে ওমেগা থ্রি থাকে। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন এই মাছ খেলে কোলেস্টেরলের সমস্যা অনেকটাই কমে যায় বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি।

কমলালেবুর রস কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। যারা প্রতি দিন দু’কাপ করে কমলালেবুর রস খান, তাদের কোলেস্টেরল হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। কমলালেবু শুধু কোলেস্টেরল নয়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরির মতো ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও ফাইবার। কম ফ্যাট যুক্ত দুধের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকার বেরি মিশিয়ে তৈরি করে নিন স্মুদি। সপ্তাহে ৩ দিন এটি খেতে পারেন। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

টমেটোর রস শরীরে লিপিডের মাত্রা বাড়াতে এবং লাইপোপ্রোটিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। রোজ আধ কাপ করে টমেটোর রস খেতে পারলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শারীরিক পরিশ্রম কিংবা ব্যায়াম করতে হবে নিয়মিত। এটি শুধু রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় না, উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রাও ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম। যারা সময় করে উঠতে পারছেন না, তারা জোরে হাঁটুন। কমপক্ষে ৪৫ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ুন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles