18.5 C
Toronto
বুধবার, জুন ১২, ২০২৪

তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মের অনুঘটকের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব প্রদানের আহ্বান টিআইবির

তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মের অনুঘটকের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব প্রদানের আহ্বান টিআইবির

তথ্য অধিকার আইনের বাস্তবায়নে তথ্যের চাহিদা ও সরবরাহ উভয় ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের বিশেষকরে তরুণ প্রজন্মের অনুঘটকের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২২ উদযাপনের অংশ হিসেবে টিআইবি ও কাপেং ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আয়োজিত আদিবাসী তরুণদের “তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯” বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রদত্ত বক্তব্যে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই আহ্বান জানান।

- Advertisement -

বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নে টিআইবি শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও নির্ভরযোগ্য গবেষণা থেকে দেখা যায়, যে দেশে যতো বেশি তথ্যের অবাধ প্রকাশ নিশ্চিত করা যায়, সে দেশে ততো বেশি মানবাধিকার সুরক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি অর্জিত হয়। আমাদের দেশে আইনটি প্রণয়নের মাত্র ১৩ বছরে দীর্ঘকালের লালিত গোপনীয়তার সংস্কৃতি থেকে উত্তরণ করে স্বচ্ছতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে, সে আশা করা দুরূহ। কেননা, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মতো আইনের মাধ্যমে আমাদের দেশে ঔপনিবেশিককালের গোপনীয়তার সংস্কৃতি এখনও সরকারের একটি অংশের মধ্যে রয়ে গেছে। যদিও তথ্য অধিকার আইনের ফলে এ আইনের বিলুপ্তি হওয়ার কথা ছিলো। তথ্য অধিকার আইনের সর্বোত্তম প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ও মানসিকতার পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য, তথ্য প্রদান ও প্রকাশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তথ্য প্রকাশের মানসিকতা সৃষ্টিতে উদ্যোগী হতে হবে। একইসঙ্গে, তথ্য অধিকার আইন ও তথ্য চাওয়ার প্রক্রিয়া সর্ম্পকে জনসাধারণকে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন ও সক্রিয় অনুঘটক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

আরও পড়ুন :: বিয়ের ৩ মাস পর চিরকুট লিখে গলায় ফাঁস দিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী

আজ টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৫ জন আদিবাসী তরুণকে “তথ্য অধিকার আইন ২০০৯” সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রাপ্তির আবেদন প্রক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ও দৈনিক আজকের পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান ও অ্যাডভোকেট রুহি নাজ কর্মশালাটি পরিচালনা করেন। টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলমের সঞ্চালনায় কর্মশালার উদ্বোধন করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইনের সক্রিয় অংশীজন হিসেবে ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর টিআইবি আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উদ্যাপন করে আসছে। এ বছর টিআইবি “আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২২” উপলক্ষে মাসব্যাপী জাতীয় পর্যায়ে ও স্থানীয় ৪৫টি সনাক অঞ্চলে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। আদিবাসী তরুণদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার পাশাপাশি টিআইবির অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিলো বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যৌথভাবে তথ্য কমিশন ও টিআইবি আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ তথ্য কমিশন ও টিআইবির মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আলোকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আয়োজন করে আসছে টিআইবি। এ বছর ৭-৮ ও ১৪-১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ দুই দফায় অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট ৫৮ জন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। সাবেক তথ্য কমিশনার নেপাল চন্দ্র সরকার ও অ্যাডভোকেট রুহি নাজ প্রশিক্ষণ কর্মশালা দুটি পরিচালনা করেন এবং প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। উক্ত কর্মশালা ছাড়াও নিয়মিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ বছরও তথ্য অধিকার আইনকে উপজীব্য করে একটি “কার্টুনভিত্তিক স্টিকার” তৈরি করেছে টিআইবি।

তথ্য অধিকার দিবস ২০২২ উপলক্ষে প্রণীত ধারণাপত্রেও বেশ কিছু আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। এর মধ্যে রয়েছে- কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতে কার্যকর নীতি কৌশল জরুরি ভিত্তিতে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন; তথ্য প্রকাশ ও তথ্যে অভিগম্যতার সুবিধার্থে ডিজিটাল টুলসের ব্যবহার বৃদ্ধিতে মনোযোগী হওয়া; তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯- এর পরিপন্থী বিদ্যমান আইনসমূহ সংস্কার ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাতিল করা, যেমন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ৩২ ধারাসহ বাক্-স্বাধীনতার পরিপন্থী অন্যান্য ধারা; নতুন কোনো আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকারের মূল চেতনার পরিপন্থী বা আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে, এমন কোনো ধারা যাতে সংযোজিত না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা; প্রাতিষ্ঠানিক স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের কার্যকরতা বৃদ্ধিতে তথ্য কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা ইত্যাদি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles