4.6 C
Toronto
সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২

বাংলাদেশের এত ব্যান্ডউইথ কোথায় যায়?

বাংলাদেশের এত ব্যান্ডউইথ কোথায় যায়?

দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ টিবিপিএস (টেরাবিটস পার সেকেন্ড) ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয়। ২০২০ সালের শুরুতে যার পরিমাণ ছিল ১০৫০ জিবিপিএস (গিগাবিটস পার সেকেন্ড)। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে যা ছিল ৩৫০ এবং আগস্ট মাসে ছিল ৪২১ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। আর ২০১৭ সালের অক্টোবরে যা হয় ৮৫০ জিবিপিএস। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পরে যার (ব্যান্ডউইথ) ব্যবহার হু হু করে বাড়তে থাকে। এক বছরের মধ্যে তা পৌঁছে যায় আড়াই হাজার জিবিপিএসে। এরপর থেকে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বাড়ছে তো বাড়ছেই। প্রশ্ন উঠেছে এত ব্যান্ডউইথ কোথায় যায়?

- Advertisement -

জানা গেছে, ব্যান্ডউইথের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ায় এর পরিমাণও বেড়েছে। বেশিরভাগ কাজ ইন্টারনেট বা অনলাইন নির্ভর হওয়ায় ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বাড়ছে। শিক্ষা, বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখা, বিভিন্ন ধরনের কমিউনিকেশন অ্যাপের ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি সময় কাটানো, নানা ধরনের রান্না শেখা বা রেসিপির ভিডিও দেখার কারণে দিন দিন ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বাড়ছে। ব্যান্ডউইথের গন্তব্য এখন এসব মাধ্যমের দিকেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বর্তমানে দেশে ৩৮৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে। করোনাকালে এর ব্যবহার দ্বিগুণ হয়েছে। সে সময় সব ধরনের কাজেই আমাদের ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। ফলে ব্যবহারও বেড়েছে। তিনি জানান, ২০৪০ সালে দেশে ব্যান্ডউইথের যে চাহিদা তৈরি হবে তা সরকার নিজস্ব সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমেই মেটাতে পারবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল সি-মি-ইউ-৪ এবং ৫ দিয়ে আসছে প্রায় ২ হাজার জিবিপিএস। অন্যদিকে ছয়টি আইটিসি— সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড, ফাইবার অ্যাট হোম, নভোকম লিমিটেড, ওয়ান এশিয়া, বিডি লিংক কমিউনিকেশন লিমিটেড ও ম্যাংগো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেডের মাধ্যমে ভারত থেকে বর্তমানে দেশে আসছে প্রায় ১৮৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ।

খাত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, দেশে ব্যবহার হওয়া মোট ব্যান্ডউইথের (৩৮৫০ জিবিপিএস) মধ্যে ইউটিউব দেখায় যায় ২৭ শতাংশ। ফেসবুক দেখায় যায় ২৪, বিভিন্ন ওটিটি (ওভার দ্য টপ) অ্যাপে (বিনোদনভিত্তিক অ্যাপস ও কমিউনিকেশন অ্যাপসের ব্যবহারে) যায় ২০ শতাংশ এবং ইন্টারনেটের অন্যান্য কাজে (ইমেইল, ব্রাউজিং ইত্যাদি) যায় ২৫ শতাংশের মতো ব্যান্ডউইথ। গেমসের পেছনে যায় ১ শতাংশের কম ব্যান্ডউইথ। সরকারি কাজ ও ফ্রিল্যান্সিং, নিউজ সাইট দেখা ইত্যাদি প্রতিটির পেছনে যায় ১ শতাংশেরও কম ব্যান্ডউইথ।

এই হারের সঠিকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে আইআইজি ফোরামের মহাসচিব আহমেদ জুনায়েদ বলেন, এই তথ্য ঠিক আছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের রুচিতে পরিবর্তন এসেছে। ওটিটি অ্যাপের ব্যবহার দেখলেই বিষয়টি বোঝা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউটিউবের কাছাকাছি চলে আসছে ওটিটির ব্যবহার। এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই ওটিটি অ্যাপের ব্যবহার ইউটিউবকে ছাড়িয়ে যাবে। ওটিটি অ্যাপের মধ্যে দেশ-বিদেশের সব ধরনের ওটিটি অ্যাপ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

খাত সংশ্লিষ্টদের তারপরও প্রশ্ন, এত ব্যান্ডউইথ কোথায় যাচ্ছে। কী কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আগামীতে ইন্টারনেট ব্যবহারের হালচাল কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। সেই উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেলো, আগামী ৭-৮ বছরের মধ্যে তথা ২০৩০ থেকে ২০৩২ সালের সালের মধ্যে দেশের ব্যান্ডউইথের চাহিদা ২৫ টেরাবাইটের বেশিতে গিয়ে দাঁড়াবে। তবে বর্তমানে মোট ব্যবহার হওয়া ব্যান্ডউইথের মধ্যে অর্ধেক বাসা বাড়িতে ব্যবহার হয়। তারপরেই আছে করপোরেট অফিস বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

ডাটালিডসের তথ্য অনুসারে এশিয়ার মধ্যে পঞ্চম বৃহত্তম ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশ হলো বাংলাদেশ। ২০০০ সালে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল এক লাখ। ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় আট কোটিতে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার। অন্যদিকে, গুগলের ইন্টারনেট ডাটা রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশে ফোরজি চালুর পরে ইউটিউব দেখার প্রবণতা বেড়েছে অনেক বেশি। এই হার প্রায় ৭০ শতাংশ।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles