8.6 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

শামীম ওসমান নয়, জিয়ার গাড়ি আটকেছিলাম আমি: জাহাঙ্গীর

- Advertisement -

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে দুই মেরুর দ্বৈরথের আলাপন বেশ পুরোনো৷ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসা উত্তর-দক্ষিণের সেই সমীকরণের কথোপকথন চালাতে গিয়েই এবার যেন শব্দ বোমার বিস্ফোরণ ঘটালেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম৷ সরকারি তোলারাম কলেজের সাবেক এই জিএস জানালেন, এমপি শামীম ওসমান নন, বরং তিনিই দুই দাবিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকেছিলেন৷ শত শত ছাত্রজনতার সেই বিক্ষোভে জিয়া তাৎক্ষণিকভাবে তোলারাম কলেজকে ‘সরকারি’ হিসেবে ঘোষণা করে তাদের একটি দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন বলেও জানান তিনি৷

সোমবার রাতে (১৯ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম এই নেতা রাজনীতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বেশ খোলামেলা আলোচনা করেন৷ এসময় তিনি ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুকে ‘নৌকা’ প্রতীক প্রদানের মাধ্যমে চেয়ারম্যান করার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মনিরুল আলম সেন্টু (ফতুল্লার কুতুবপুরের ইউপি চেয়ারম্যান) জাতগতভাবে বিএনপি।

তিনি বিএনপি’র কমিটিতেও ছিলেন। আওয়ামী লীগে নেতাকর্মীর অভাব পড়ছিলো? আ’ লীগের নেতা গোলাম রসুল চেয়েছিলেন মনোনয়ন৷ তাকে না দেন, দলের একজন কর্মীকে দিতেন, যে কি না আ’লীগের ঝাণ্ডা ধরে৷ আপনি বিএনপি থেকে ভাড়া করে এনে মনোনয়ন দিলেন, সে পাঁচ বছরের জন্য চেয়ারম্যান হলো। সে পাঁচ বছরে প্রচুর অর্থের মালিক হয়ে যাবে, আরো টাকার পাহাড় গড়বে৷ দুর্দিন হলে এই সেন্টু কি থাকবে আ’লীগে? কখনও থাকবে না, স্পষ্ট বলে গেলাম৷ সে কখনোই আ’লীগের পতাকার তলে থাকবে না৷ তার পূর্বের দলে সে চলে যাবে।’

জেলা আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, ‘লোক ভাড়া করে আনা হচ্ছে নিজের স্লোগান দেওয়ার জন্য৷ বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও দলের জন্য স্লোগান দেওয়ার জন্য নয়।

ছাত্ররাজনীতির স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি যখন ছাত্রলীগ থেকে জিএস পদে মনোনয়ন পেলাম, শামীম ওসমান পেলেন ভিপি পদে মনোনয়ন৷ তখন থেকেই একটা উত্তর মেরু- দক্ষিণ মেরু অবস্থান গড়ে ওঠে। উত্তর মেরুতে ছিলেন শ্রদ্ধেয় একেএম শামসুজ্জোহা ভাই (বর্তমানে প্রয়াত), দক্ষিণ মেরুতে ছিলেন আমার প্রিয় নেতা আলি আহম্মেদ চুনকা ভাই(প্রয়াত)। সেখান থেকেই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা নিয়ে শুরু হয় গ্রুপিং। আমি ছিলাম চুনকা ভাই গ্রুপের, শামীম ছিল শামসুজ্জোহা ভাইয়ের ব্লকে৷ সেসময় ছাত্রলীগ করতে গেলে বুকে হিম্মত লাগতো৷ বুকে আমার সৎ সাহস ছিল।

তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকে দেওয়ার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল দুটি৷ একটি হচ্ছে তোলারাম কলেজকে ‘সরকারি’ ঘোষণা করা, আরেকটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জকে জেলা ঘোষণা করা৷ তখন হঠাৎ করে জিয়াউর রহমান এলেন নারায়ণগঞ্জ বালুর মাঠে একটি জনসভা করতে৷ উনি দুইটা থেকে আড়াইটার দিকে হেলিকপ্টার করে চাষাঢ়া স্টেডিয়ামে এলেন।

তখন কিন্তু শামীমও ছিল না সেখানে৷ সে ছিল কলেজের ভিতরে৷ আমি তখন তোলারাম কলেজের সামনের রাস্তায় শত শত ছাত্রকে শুইয়ে রাখলাম৷ জিয়াউর রহমান সেখানেই আসলেন ও বাধার মুখে পড়লেন। তার সাথের দেহরক্ষীরা তখন ইতোমধ্যে অস্ত্র তাক করেছেন আমাদের দিকে। তখন জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, খবরদার ওরা ছাত্র৷ এরপর তিনি আমাদের কথা শুনতে চান৷

আসলে শত শত ছাত্র শুয়ে ছিল রাজপথে, কয়জনকে মারবে! একপর্যায়ে জিয়া আমাদের ডেকে দাবির কথা জিজ্ঞেস করলে আমি কথা বলি তার সাথে৷ তাকে গাড়ি থেকে নেমে কথা বলার জন্য বলি৷ তখন তিনি গাড়ি থেকে নামার পরে দাবি শুনে ওই মুহুর্তেই তোলারাম কলেজে ‘সরকারি’ বলে ঘোষণা দেন প্রকাশ্যে।

প্রসঙ্গত, সংসদ অধিবেশনসহ বিভিন্ন সমাবেশ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে এমপি শামীম ওসমানকে প্রায়ই জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকে দেওয়ার ঘটনা বর্ণনা করতে দেখা যায়। সেদিন জিয়ার গাড়ি আটকাতে গিয়ে তার পিঠে সাইকেল ভাঙা হয়েছিলো- বিভিন্ন বক্তব্যে শামীম ওসমানকে এমনটি উল্লেখ করতে দেখা গেছে।

সূত্র : বিডি২৪লাইভ

Related Articles

Latest Articles