10.9 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

রানীর মতো সেজে কারাগারে

- Advertisement -
ছবি সংগৃহীত

একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীতেও ব্রিটেনসহ ইউরোপ-এশিয়ার কয়েকটি দেশে এখনো রাজা-রানীরা টিকে আছেন। তাদের ক্ষমতা আগের মতো না থাকলেও গুরুত্ব কমে যায়নি। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ দাসত্ব থেকে বেরিয়ে এসেছে বহু আগে, এখন কেউ কারও প্রজা নয়। অথচ আজও রাজা-রানীদের ‘ভাবমূর্তি’র অজুহাতে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব হয়। থাইল্যান্ডের ২৫ বছর বয়সী তরুণী জাতুপর্ন সায়েওয়েং এর ভুক্তভোগী। ২০২০ সালে এক রাজনৈতিক সমাবেশে থাই ঐতিহ্যবাহী গোলাপি রঙের পোশাক পরে ব্যাংককের রাস্তায় নেমেছিলেন এই অধিকারকর্মী। এরপরই দেশটির প্রশাসনের হাতে আটক হন তিনি।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, থাই রানীর মতো পোশাক পরে রানীকে অপমান করেছেন এই নারী। এ ‘অপরাধে’ তাকে দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে একটি প্রতিবাদ সমাবেশে গোলাপি সিল্কের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ব্যাংককের রাস্তায় লাল-গালিচায় হেঁটেছিলেন জাতুপর্ন, সেসময় তার মাথায় ছাতা ধরেন আরেকজন। থাইরাজার স্ত্রী রানী সুথিডাও প্রায়ই জনসমাগমে এরকম পোশাক পরেন। থাই রাজপরিবারের সদস্যদের বেলাতেও এরকম ছাতাধারী লোক থাকে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাতুপর্ন দাবি করেন, কাউকে অপমান করতে নয়, নিজের পছন্দে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেছিলেন তিনি। কিন্তু থাইল্যান্ডের কুখ্যাত আইন তা মানেনি। এ আইনে রাজা-রানীদের কোনোরকম সমালোচনা একেবারে নিষেধ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানায়, ২০১৯ সালে রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন সিংহাসনে বসার পর কর্র্তৃপক্ষ যেকোনো আন্দোলন দমনে এই আইনের অপপ্রয়োগ করছে। ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত এ আইনে অন্তত ২১০ জনের শাস্তি হয়েছে। শুরুতে জাতুপর্নের ৩ বছরের কারাদণ্ড হয়, যা কমিয়ে ২ বছর করা হয়েছে। জাতুপর্নদের প্রতিবাদ সম্পর্কে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে লালগালিচা ফ্যাশন শো ছিল একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ। এরকম শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে কারও শাস্তি কাম্য নয়।

Related Articles

Latest Articles