8.6 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

ঘরে বাড়িওয়ালার তালা, রাতভর বাইরে অন্তঃসত্ত্বাসহ পুরো পরিবার

- Advertisement -

ঢাকার সাভারে বকেয়া বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে না-পারায় ভাড়াটিয়ার ঘরে তালা দিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে। এতে বৃষ্টির মধ্যেই মধ্যরাত পর্যন্ত বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীসহ তার পরিবারকে। পরে অবশ্য পাশের একটি বাড়িতে তাদের ঠাঁই মেলে।

শুধু তাই নয়, বাসা ভাড়ার জন্য চরম অপদস্থ ও গালিগালাজের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারটির। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাননি বলেও দাবি করেছেন তারা।

গতকাল সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের কান্দাইল মহল্লায়। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী তাসলিমা আক্তার ও তার স্বামী মো. রানা।

অভিযুক্তরা হলেন- বাড়ির মালিক কুলসুম বেগম। তার স্বামী প্রবাসী মো. ইউসুফ।

অন্তঃসত্ত্বা তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী কন্ট্যাকে কাজ করে। আমিও গার্মেন্টসে কাজ করি। এখন পাঁচ মাসের বাচ্চা পেটে আমার। ফলে আমি ওভারটাইম করতে পারি নাই। স্বামীও টাকা না পাওয়ায় ভাড়া দেওয়া সম্ভব হয় নাই। ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে আড়াই মাসের ভাড়া বাঁধছে। সন্ধ্যায় গার্মেন্টস থাইকা দেখি বাড়িওয়ালি আমাগো ঘরে তালা দিয়া দিছে। অন্য ভাড়াটিয়াসহ আশপাশের মানুষ আইসা রিকোয়েস্ট করল, কিন্তু মালিক কুলসুম বেগম শোনে নাই।’

আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে অনেক কষ্ট করে ৫ হাজার টাকা এনেছিলেন উল্লেখ করে ভুক্তভোগী বলেন, ‘সেটাও নেবে না বাড়িওয়ালি। উল্টো আমাদের গালিগালাজ করছে। আমরা যেন ঘরে ঢুকতে না পারি এই জন্য রাত ১২টা পর্যন্ত চেয়ার নিয়া ঘরের সামনে বসে ছিল। এর আগেও একদিন ঘরে তালা দিয়া রাখছিল। তখন সারাদিন না খাইয়া ছোট বাচ্চাটারে নিয়া আছিলাম। আজ আবারও বাচ্চাকাচ্চা নিয়া না খেয়ে বৃষ্টির মধ্যে বাইরে দাঁড়িয়ে আছি।’

‘মূলত আমাদের তাড়িয়ে দিয়ে ঘরে এক লাখ টাকার জিনিসপত্র আছে সেগুলো বিক্রি করতে চায় বাড়িওয়ালি’, যোগ করেন তাসলিমা আক্তার।

বৃষ্টির মধ্যে রাতে তালা খুলে দিতে কুলসুম বেগমকে অনুরোধ করেছিলেন প্রতিবেশীরাও। কিন্তু তাতেও মন গলেনি তার। পরে মধ্যরাতে পরিবারটিকে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে জায়গা দেন স্থানীয় মো. রাব্বী নামের একজন।

তিনি বলেন, বাসা ভাড়ার জন্য বাড়ির মালিক ওই ভাড়াটিয়াদের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে অনেক রাত পর্যন্ত অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী তার ছোট একটি ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এটা চরম অমানবিক একটা কাজ। এমন বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

ভুক্তভোগীর স্বামী মো. রানা বলেন, ‘আমি আইজকাই হামিম গ্রুপে আমার ওয়াইফের অফিসে চাকরি পাইছি। আগে কন্ট্যাক্টে কাজ করছি। কিন্তু কন্ট্রাক্টর কাম শেষে পালায় গেলে আমি ট্যাকা পাই নাই। আইজকা বাড়িওয়ালা ভাড়া না পাইয়া আমাগো বাইর কইরা ঘরে তালা দিছে।’

৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালেও পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাননি উল্লেখ করে রানা বলেন, ‘ওখান থাইকা আশুলিয়া থানায় ধরায় দিছে। কিন্তু থানার অফিসার আমারে বলছে, আপনারা তো ভাড়া দেন নাই। এইটা বাড়িওয়ালার সঙ্গে বইসা চেয়ারম্যান, মেম্বার নিয়া মীমাংসা করেন। ওইখানে আমাদের কিছু করার নাই।’’

এ ব্যাপারে জানতে বাড়িওয়ালি কুলসুম বেগমকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘১৮ হাজার ট্যাকা ভাড়া ভাই। তালা দিমু নাতো কি করমু? আপনি তো সবই জানেন। ফোন দিছেন ক্যা?’

আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক আব্দুল আউয়ালের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘৯৯৯ এ তো অনেক ফোন আসছে। তবে বাসা ভাড়ার ঘটনায় না, এমিন কল আসছিল।’ পরক্ষণেই তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ ৯৯৯-এ কল আসছিল। এসআই মিলন ফকিরকে পাঠানো হয়েছিল।’

কিন্তু সকাল পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘সরি, এটা তো সঙ্গে সঙ্গেই মেসেজ দেওয়া হয়েছে। না যাওয়ার বিষয়টি আমি বলতে পারব না।’

তবে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকিরের সঙ্গে কথা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলেই জানান। এমনকি, আজ মঙ্গলবার সকালেও তাকে ফোন করে পাওয়া যায়নি।

সূত্র : আমাদের সময়

Related Articles

Latest Articles