10 C
Toronto
শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২

গুমের তালিকার ৩৫ জনকে আমরাই খুঁজছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

- Advertisement -

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় গুমের শিকার হওয়া ৭৬ জন মানুষের যে তালিকা সরকারকে দিয়েছিল, সেই তালিকার ৩৫ জনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের খোঁজা হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদের আয়োজনে এক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় ধর্মীয় সংখ‍্যালঘু নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থান ও নিরাপত্তা: ভিশন ২০৪১’ শিরোনামে শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। তাতে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সূত্র দিয়ে বলা হয়, গত ৫ বছরে দেশে ২ হাজার ৮০৩টি হিন্দু বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় আয়োজকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সম্পত্তি বিনষ্ট করেছে বিস্তারিত তালিকা দেবেন।

হিন্দু বাড়িঘর ও সম্পত্তিতে হামলার সংখ্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী গুমের প্রসঙ্গ টানেন। বলেন, গুমের কথা বলে যে, হাজার হাজার গুম হয়ে গেছে। তালিকা চাইলাম, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ৭৬ জনের তালিকা দিল। এর মধ্যে ১০ জন বিএনপির কর্মী। তারা বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছেন। আর ৩৫ জনকে আমরা নিজেরাই খুঁজছি। বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কাজ, মানুষ হত্যা, সম্পদ পুড়িয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের খুঁজছি। একজন আবার জেলে অবস্থান করছে।

গত বছর জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ বিভিন্ন সময় গুমের শিকার হওয়া ৭৬ জনের একটি তালিকা বাংলাদেশ সরকারকে দেয়। এ বিষয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপে আলোচনা হয়। গত ১৪ আগস্ট জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট ঢাকা সফরে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই তালিকা নিয়ে কথা বলেন।

বক্তব্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের মামলার আবেদন প্রসঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘বাবুল আক্তার যেসব কথা বলেছেন তা বাস্তবসম্মত কি না তা তদন্ত করেই বের করা হবে। পিবিআইয়ের ওপর ভরসা রয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত সবকিছুই সূক্ষ্মভাবে তদন্ত করেছে। ৩০ বছর আগের মামলাও পিবিআই তদন্ত করে অপরাধী বের করেছে। আমি মনে করি পিবিআই ভুল করবে না। বাবুল আক্তার যেসব প্রশ্ন তুলেছেন তা তদন্তের পরই বের হবে।’

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেন, কীভাবে তাদের এগিয়ে যেতে হবে সেই পথনকশা দিলেন। ফলে নারীরা আজ সবক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এগিয়ে চলছেন।

তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে আলোকিত বাংলাদেশের লক্ষ্যে পৌঁছাবো। নারীদের সহযোগিতা ছাড়া আমরা এগিয়ে যেতে পারব না।

সূত্র : ঢাকাটাইমস

Related Articles

Latest Articles