12.7 C
Toronto
বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২

১২ বছর ধরে কবরস্থানে বসবাস এক পরিবারের

- Advertisement -

দিনের বেলাতেও কবরস্থানের পাশ দিয়ে যেতে অনেকের গা ছমছম করে। অনেকে তো আবার সেই পথ এড়িয়েই চলে যান। আর সেই স্থানেই কিনা পরিবার নিয়ে দীর্ঘ সময় থেকে বসবাস করছেন আব্দুল হক। যেখানে নেই পয়ঃনিষ্কাশন ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা। ১২ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করলেও সম্প্রতি কবরস্থান কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদের কথা বলায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে ছয় সদস্যের পরিবারটি।নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের আরাজী কলোনি কবরস্থানে গেলে এমন দৃশ্য চোখে পড়বে।

নিজের কোনো জমি না থাকায় পরিবার নিয়ে কবরস্থানে দীর্ঘ সময় থেকে বসবাস করছে পরিবারটি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন স্থানীয় স্কুলশিক্ষক যতীন্দ্র নাথের জমিতে কুঁড়েঘর বানিয়ে বসবাস করে আসছিলেন আব্দুল হক। কিছু দিন পর সেখান থেকে উঠিয়ে দেন ওই স্কুলশিক্ষক। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে কবরস্থানের এক কোনায় বসবাসের সুযোগ করে দেন তৎকালীন কমিটি। তখন থেকে আরাজি কলোনি কবরস্থানের জায়গায় সামাজিক সংগঠনের দেওয়া একটি টিনের ঘর ও দুটি টিন ও খড়ের চালায় ঘরে পলিথিনের ছাউনি লাগিয়ে ছেলে, পুত্রবধূ, দুই নাতি এবং স্ত্রী নিয়ে বসবাস করছেন আব্দুল হক।

সংসার চলে অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনো মতে চলছে কোনোমতে তাদের। আর কাজ না থাকলে বাঁশ কিনে ঝাড়ু বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে চালাতে হয় সংসার খরচ। আব্দুল হক বলেন, ‘যতীন্দ্র মাস্টারের জমিতে ছিলাম। ওখান থাকি উঠিয়ে দিল। সবাই মিলে থাকার জন্য কবরস্থানে জায়গা দিল। এখন নতুন কমিটি এখান থেকে চলি যেতে বলেছে। কী করব? কোথায় যাব? জানি না। সরকার তো অনেকরেই ঘর দিলো, আমারেও একটা দিলে বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকতে পারতাম।’

আব্দুল হকের ছেলে ওমর আলী বলেন, ‘কী করব আমরা? কী করি খাব? কোথায় যাব? আমাদের কোনো উপায় নেই। মানুষের বাড়িতে কাজ করে খাই। জমি কীভাবে কিনমো। কী করব আমি? যদি সরকার সহযোগিতা করত তাহলে ঠাঁই পাইতাম।’ ওমর আলীর স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, ‘কবরস্থানে থাকি। এখান থেকে আমাদের উঠি দিবার চাইছে। আমরা কোথায় যাব? আমাদের ঘরও নাই। একটা ঘর এনজিও দিছে। কারেন্ট নাই, কুপি জ্বালায় ভাত খাই রাতে।’

বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিবেশী কৌশলা রানী বলেন, ‘আগোত তো মানুষের বাড়ির পেছনে আছিল। পরে আসছে কবরস্থানে। এখন কমিটি বার বার কয় চলি যাও এখান থাকি, এটে থাকা হইবে না। এখন কোটে যাইবে এমরা। যাবার তো জায়গা নাই। এখন যদি সরকার সাহায্য করে, তাইলে ভালো হয়।’ স্থানীয় কালীপদ রায় বলেন, ‘চাচা খুব অসহায় মানুষ। উনার জমি জায়গা কিছু নাই। কবরস্থানে থাকতেছে। কিন্তু এখন এখানেও থাকতে দেয় না। সরকারের কাছে আবেদন যদি একটা ঘর দেয় তাদের।

ওনারা ভালো থাকবে।’পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম তালুকদার বলেন, ‘এ বিষয়ে একবার আমার সঙ্গে কথা হইছিল। তারা যদি আবেদন করে, আমি ভূমিহীনের সার্টিফিকেট করে দেব। ইউএনও স্যারের কাছে দেবে তারা। আমি সার্টিফিকেট করে দিবার পাব কিন্তু কবে ঘর পাবে তা বলতে পারছি না।’ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ হচ্ছে। তিনি যদি প্রকৃত ভূমিহীন হন, তাহলে সেই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।’

সূত্র : বিডি২৪লাইভ

Related Articles

Latest Articles