14.8 C
Toronto
রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

‘লাল সিং চাড্ডা ফরেস্ট গাম্পের চেয়ে আমার বেশি ভালো লেগেছে’

- Advertisement -
তসলিমা নাসরিন

নব্বইয়ের দশকে ফরেস্ট গাম্প ছবিটা অনেকবার দেখা হয়েছে। ছবিটা ভালো লেগেছিল ফরেস্টের সরলতার জন্য। ফরেস্ট গাম্পের ভারতীয় অনুকরণ লাল সিং চাড্ডা দেখলাম গতকাল। সত্যি বলতে, লাল সিং চাড্ডা ফরেস্ট গাম্পের চেয়ে আমার বেশি ভালো লেগেছে। কারণগুলোর মধ্যে আছে এক, লাল সিংয়ের সরলতা, দু্‌ই, সকল ধর্মের উর্ধ্বে মানবতাকে তুলে ধরা, (তাছাড়া ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে বেশ সম্মান করা হয়েছে, লাল নিজে শিখ, কিন্তু তাঁর একমাত্র বন্ধু হিন্দু, তাঁর একমাত্র প্রেম খ্রিস্টান, যার জীবন তিনি বাঁচিয়েছিলেন সে মুসলিম।) তিন, ঐতিহাসিক যে ঘটনাগুলো দেখানো হয়েছে, সেগুলো এই উপমহেদেশেরই, সে কারণে রিলেট করতে পেরেছি বেশি।

যারা লাল সিং চাড্ডাকে বয়কট করছে, তাদের জন্য দুঃখ হচ্ছে, ভালো একটি ছবি দেখার সুযোগকে নষ্ট করলো তারা। বয়কটের কারণে ছবিটি ব্যবসা সফল হয়নি। এতে কার লাভ হলো, লাভ কি আদৌ কারও হলো? কয়েক বছর আগে পদ্মাবতীর বিরুদ্ধেও করনি সেনারা উঠে পড়ে লেগেছিল। ছবিতে নাকি দেখানো হয়েছে আলাউদ্দিন খিলজির প্রেমে পড়েছে পদ্মাবতী। আমি ছবি দেখে তাজ্জব। মোটেও প্রেম নয়, বরং মুসলিম শাসক থেকে বাঁচার জন্য পদ্মাবতী এবং অন্যান্য রাজপুত মেয়ে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে জাওহার বা স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করেছে। এটিই তো চায় করনি সেনারা। ছবিটি দেখে করনি সেনারা পরে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছিল।

দক্ষিণের ধুম ধাড়াক্কা সিনেমার জনপ্রিয়তার সামনে বলিউড আজকাল জবুথবু। এই সময় দল বেঁধে বলিউডের ছবিকে ফ্লপ করিয়ে যারা আনন্দ পাচ্ছে পাক, আমি একটি ভালো ছবি দেখে আনন্দ পেয়েছি। যত যাই বলি, আমাদের সবার আনন্দ একরকম নয়। কেউ পাহাড়ে চড়ে আনন্দ পায়, কেউ ঘরে বসে থেকে আনন্দ পায়। কেউ জেগে থেকে আনন্দ পায়, কেউ আনন্দ পায় ঘুমিয়ে। কেউ কাউকে মেরে আনন্দ পায়, কেউ আবার কাউকে ভালোবেসে আনন্দ পায়।

Related Articles

Latest Articles