16.8 C
Toronto
মঙ্গলবার, মে ২৪, ২০২২

একটা মানুষকে মারতে কয়টা গুলি লাগে: নিহত ছাত্রদল নেতার স্ত্রী

- Advertisement -
একটা মানুষকে মারতে কয়টা গুলি লাগে: নিহত ছাত্রদল নেতার স্ত্রী - The Bengali Times
খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জনির স্ত্রী মুনিয়া আখতার।

‘জনিকে একটা একটা করে ১৮টি গুলি করে হত্যা করা হয়। কি নিষ্ঠুরভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। একটা মানুষকে মারতে কয়টা গুলি করতে হয় ?’

স্বামীকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে তা উল্লেখ করতে এসব কথা বলেন খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জনির স্ত্রী মুনিয়া আখতার।

- Advertisement -

শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে খুন, গুমের শিকার নেতা কর্মীদের পরিবারের সম্মানে কৃষক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মুনিয়া আখতার বলেন, ‘আজকে জনিকে হত্যার সাত বছর কেটে গেছে। তাকে হত্যার সময় আমি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। এখন আমার সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করেছি। সন্তান আমাকে বলে স্কুলে তার সহপাঠিরা তাকে জিজ্ঞেস করে তার বাবার নামে আগে লেট (মৃত) লিখতে হয় কেনো? আমি এর কোনো উত্তর দিতে পারি না। আমি আমার স্বামীকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার বিচার চাই।’

ছাত্রদল নেতা নুরুল ইসলাম নুরে মেয়ে উম্মে হাবিব মীম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘বাবার সঙ্গে রোজা পালন করতে চাই আমি। তার সঙ্গে ইফতার করতে চাই। অন্যরা যেভাবে তার বাবার সঙ্গে ইফতার করে। আমার বাবার হত্যার কি বিচার হবে না ? আল্লাহর কাছে এর বিচারের ভার দিলাম।’

নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, ‘আগামী ১৭ এপ্রিল ইলিয়াসের নিখোঁজের ১০ বছর পূর্ণ হবে। ইলিয়াস গুমের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার চাই। বর্তমান সরকার এই গুমের বিচার করবে না। কারণ এই সরকার ইলিয়াস গুমের সঙ্গে জড়িত। আগামী প্রজন্ম এই গুমের বিচার করবে।’

পরে ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জোরপূর্বক অপহরণ জাতিসংঘের চার্টার অনুযায়ী চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের গুম করেছে, হত্যা করেছে বর্তমান সরকার। কাউকে কাউকে গুম করার পর কেটে গেছে ৯-১০ বছর। এভাবে সারা দেশে আমাদের ছয়শো নেতা কর্মী গুম হয়েছে। এসব নেতা কর্মীর পরিবার তাদের পিতা, স্বামী ও সন্তানকে খুঁজছে।’

তিনি বলেন, ‘নেতা কর্মীদের গুমের সঙ্গে জড়িত সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ কারণে একটি বাহিনী ও ব্যক্তি পর্যায়ের কয়েকজনের ওপর আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এটা অপমানজনক দেশের জন্য।’

নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে সরকার দেশকে এমন একপর্যায়ে নিয়ে গেছে যে এখন এই সরকার সরাতে না পারলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না। দেশে খুন, গুম বন্ধ করতে হলে ক্ষমতাসীন দানব সরকারকে সরিয়ে দিতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ সরকারকে হটাতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

ইফতারের আগে খুন, গুমের শিকার নেতা কর্মীদের পরিবারগুলোর মাঝে কৃষক দলের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার তুলে দেওয়া হয়। ঈদ উপহার তুলে দেন মির্জা ফখরুলসহ দলটির স্থায়ী কমিটি ও ভাইস চেয়ারম্যানরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, নিতাই রায় চৌধুরী, উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কৃষকদলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল ও মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।

 

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles