-7.3 C
Toronto
শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৩

প্রধানমন্ত্রীর নজরে সোহেল-রওশনের ‘নজিরবিহীন ভালোবাসার’ গল্প

প্রধানমন্ত্রীর নজরে সোহেল-রওশনের ‘নজিরবিহীন ভালোবাসার’ গল্প - the Bengali Times
সোহেল রওশনের নজিরবিহীন ভালোবাসার গল্পটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তা নজর কেড়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

গণমাধ্যম ও স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল সোহেল-রওশনের নজিরবিহীন ভালোবাসার গল্পটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তা নজর কেড়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালের গুজিয়াম টানপাড়া গ্রামে এই দম্পতির বাড়িতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান।

এ তথ্য নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এনামুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি ওই দম্পতির সঙ্গে কথা বলেন এবং সরেজমিনে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামানকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা পেয়ে আক্তারুজ্জামান ওই দম্পতির বাড়ি গিয়ে তাদের সমস্যা ও কষ্টের কথা শোনেন এবং সেগুলো দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জানিয়ে সমাধানের আশ্বাস দেন।

- Advertisement -

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ভালোবাসার যে নিদর্শন তৈরি করেছেন সোহেল-রওশন, সে বিষয়টি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরে আসে।

আক্তারুজ্জামান বলেন, সোহেল ও রওশনের সঙ্গে কথা বলে তার মনে হয়েছে- কারও জীবনকে অর্থবহ ও সুন্দর করতে গেলে অত্যন্ত ধনী, মেধাবী, সুন্দর কিংবা পারফেক্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসার। এই দম্পতি তার প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, রওশনের স্বামী সোহেল স্ট্রোক করেছেন ২০২০ সালে। তাই ভারী কাজ করতে পারেন না তিনিও। তারা বসবাস করেন একটি মাটির ঘরে। পাশে রয়েছে টং, যেখানে সোহেল তার স্ত্রীর মানসিক প্রশান্তির জন্য এটি করে দিয়েছেন; যেন তিনি মানুষের সঙ্গে কন্ট্রাক্টে থাকতে পারেন।

ইউএনও বলেন, পরিবারটির এখন প্রয়োজন গোসলখানা-টয়লেট একসঙ্গে রেখে একটি ঘর, পুঁজিসহ স্থায়ী দোকান এবং চলাচলের জন্য হুইলচেয়ারের। তিনি জানান, তাদের মেয়ে স্মরণী এখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে উচ্চশিক্ষিত করার মাধ্যমে রওশন তার স্বপ্ন পূরণ করতে চান। দারিদ্রের কারণে যেন তার পড়াশোনা বন্ধ না হয়ে যায়, এটিও সোহেল মিয়া ও রওশন আক্তারের চাওয়া। খোঁজখবর নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই দম্পতি।

সোহেল মিয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেছেন। জন্ম থেকেই দুই পা অচল রওশনের। নিজের পায়ে ভর দিয়ে চলার শক্তি নেই। ১০ টাকায় পাওয়া নম্বর থেকে ভালোবাসার শুরু। কখনো ছেড়ে না যাওয়ার প্রতিশ্রতি দিয়ে ১৪ বছর আগে ভালোবেসে তাকে বিয়ে করেন সোহেল। এরপর থেকে স্বামীর পিঠে চড়েই চলাফেরা করেন রওশন আক্তার। হয়েছেন সন্তানের মা। এখন ছোট্ট মাটির ঘর আর একটি টং দোকানই তাদের সম্বল। তবে শত কষ্টের মধ্যেও তারা অনেক সুখী।

 

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles