ভাইরাল ভিডিওর জেরে মেয়েকে হত্যা, সড়ক দুর্ঘটনার নাটক বাবা-ভাইয়ের

ভাইরাল ভিডিওর জেরে মেয়েকে হত্যা, সড়ক দুর্ঘটনার নাটক বাবা-ভাইয়ের - the Bengali Times
এক যুবকের সঙ্গে মেয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ২২ বছর বয়সী তরুণীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে

এক যুবকের সঙ্গে মেয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ২২ বছর বয়সী তরুণীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ভারতের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে তারা ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

নিহত তরুণীর নাম সোফিয়া। তিনি একটি হাসপাতালে অভ্যর্থনাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় এক মাস আগে ১২ আগস্ট রাতে সোফিয়াকে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে নিয়ে বের হন তার বাবা মোহাম্মদ ফারুক ও ৩৮ বছর বয়সী ভাই মোহাম্মদ হাবিল।

- Advertisement -

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ঘেলজিপুরা গ্রামের কাছে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে হাবিল তার বোনের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে কয়েকবার আঘাত করেন। পরে বাবা ও ছেলে মিলে সোফিয়ার আহত দেহ প্রধান সড়কের কাছে নিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে তারা নিজেদের মোটরসাইকেলটিও ভেঙে ফেলেন।

এরপর পুলিশকে হাবিল জানান, ঘেলজিপুরা মোড়ের কাছে একটি দ্রুতগতির যান তাদের মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তার বোন গুরুতর আহত হন এবং তিনিও সামান্য আঘাত পান।

পরে সোফিয়াকে সোলা সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়।

তবে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের কাছে একপর্যায়ে পুরো বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। তদন্তে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে এক যুবকের সঙ্গে সোফিয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনার পর থেকেই তার বাবা ও ভাই ক্ষুব্ধ ছিলেন।

পুলিশের দাবি, পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকে তারা সোফিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

ঘটনাটি সামনে আসার পর অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে একজন তরুণীর এমন পরিণতি আবারও পারিবারিক ‘সম্মান’ রক্ষার নামে সহিংসতার ভয়াবহ দিকটি সামনে নিয়ে এসেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles