
কানাডার রপ্তানি পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন দফার ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হচ্ছে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা। নির্ধারিত সময়সীমার আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি থাকলেও এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ।
সিমেন্ট থেকে হকিস্টিক কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। আলোচনা সফল না হলে আগামী ১৯ আগস্ট থেকে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। ওয়াশিংটনে কানাডার শীর্ষ আলোচক ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রির মধ্যে বৈঠকও শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে কোনো মন্তব্য না করেই সেখান থেকে বেরিয়ে যান কানাডার আলোচক।
এর কিছুক্ষণ পর কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যমন্ত্রীও বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন। সাংবাদিকদের তিনি শুধু বলেন, আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর কথায়, ‘আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি।’ এর মধ্যেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, শুল্ক কার্যকরের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কথা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সেন্ট জন’সে এক অঘোষিত সংবাদ সম্মেলনে কার্নি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার জন্য এখনো ৪৮ ঘণ্টা সময় রয়েছে। কানাডার জন্য গ্রহণযোগ্য চুক্তি ঠিক কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে অবশ্য তিনি রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য, এই সময়ের মধ্যে আরও বিস্তারিত আলোচনা ও দর-কষাকষি চলবে এবং আলোচনার টেবিলই এ মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর জায়গা।
কার্নির বক্তব্যে স্পষ্ট, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমঝোতার সম্ভাবনা খোলা রাখছে অটোয়া। তবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় চাপও বাড়ছে কানাডার ওপর। অন্যদিকে, সম্ভাব্য শুল্ক পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড জানিয়েছেন, তাঁর প্রদেশ যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টা কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সময়ের মধ্যে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে, নাকি ১৯ আগস্ট থেকেই কানাডার পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা চাপবে এখন সেই প্রশ্নই সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

