
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের মধ্যে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ৯১ বছর বয়সি গুনা মায়া বোহারা। নুয়াকোট জেলার নদীতীরবর্তী দেবীঘাট শহরের একটি বৃদ্ধনিবাসের ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
বন্যায় বৃদ্ধনিবাসটির সাত বাসিন্দা প্রাণ হারালেও বোহারা প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা পানির মধ্যে আটকে থাকার পরও বেঁচে যান। উদ্ধার হওয়ার সময় কাদায় তার প্রায় পুরো শরীর ঢেকে ছিল। শুধু মাথাটি পানির ওপরে দেখা যাচ্ছিল।
জানা গেছে, বন্যার সময় বোহারা বৃদ্ধনিবাসের নিচতলার একটি কক্ষে ছিলেন। আগে থেকেই তার পায়ে শারীরিক সমস্যা ছিল। পানির তীব্র স্রোতে হাতে আঘাতও পান তিনি। তবে বাঁচার জন্য তিনি ঘরের জানালা খুলে মাথা পানির ওপরে রাখেন। এভাবেই দীর্ঘ সময় পানির মধ্যে টিকে থাকেন তিনি।
বন্যার প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা সেখানে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে তাকে অন্য প্রবীণদের সঙ্গে স্থানীয় একটি আয়ুর্বেদিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া প্রবীণদের খাবার, পোশাক, চিকিৎসা ও নার্সিং সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থাও বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
এদিকে নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২১৬ জন। তিব্বতে আরও ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলসহ দুর্গম এলাকাগুলোতে জীবিতদের সন্ধানে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

