
ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে অপহরণের পরিকল্পনা করেছিল একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। তবে ফরাসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময়োচিত তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। ফলে সম্ভাব্য অপহরণের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফুটবলার, র্যাপ সংগীতশিল্পী ও বিপুল সম্পদের মালিক ব্যবসায়ীসহ মোট ২৬ জনকে অপহরণের জন্য লক্ষ্যবস্তু করেছিল চক্রটি। তাদের তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম ছিল এমবাপ্পের।
এ ঘটনায় ১৮ বছর বয়সি ক্লেমঁ এল নামের এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, ‘লেস্টার জেড’ ছদ্মনামে তিনি একটি অপরাধী চক্র পরিচালনা করতেন। সশস্ত্র ডাকাতি ও দালালির অভিযোগে তিনি বর্তমানে কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
তদন্তকারীদের দাবি, কারাগারে থেকেও চক্রটির কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন ওই তরুণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সহযোগীদের বিভিন্ন নির্দেশনাও দিতেন তিনি।
গত এপ্রিল ন্যুই সুর সেন এলাকায় একটি বিলাসবহুল ঘড়ির দোকানে ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। পরে তার দুটি মুঠোফোন তল্লাশি করে ২৬ জনের ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যসহ একটি তালিকা উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অপহরণের পরিকল্পনা করেছিল চক্রটি। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে ছিলেন কয়েকজন ফুটবলার, র্যাপ সংগীতশিল্পী এবং বিপুল সম্পদের মালিক ব্যবসায়ী।
বিচারিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওই তালিকায় এমবাপ্পের নামের পাশাপাশি একজন র্যাপ শিল্পী, একজন গয়না ব্যবসায়ী, একজন তুর্কি মাংস ব্যবসায়ী এবং একজন চীনা ব্যবসায়ীর নামও ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তরুণ জানিয়েছে, রান্নাবিষয়ক একটি বৃত্তিমূলক কোর্সের প্রথম বর্ষেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিল সে। ভবিষ্যতে আবার পড়াশোনা শেষ করে রাঁধুনি হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানিয়েছে।
অপহরণের পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগেই চক্রটির কর্মকাণ্ড সামনে চলে আসে।
ফলে তালিকায় নাম থাকলেও এমবাপ্পেকে অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের সময়োচিত পদক্ষেপেই সম্ভাব্য বড় ধরনের অপরাধ থেকে নিরাপদে রক্ষা পেয়েছেন ফ্রান্সের এই তারকা ফুটবলার।

