
কানাডার বিভিন্ন প্রান্তে বুধবার দেখা গেল আংশিক সূর্যগ্রহণ। মেরিটাইম প্রদেশ থেকে শুরু করে অন্টারিও, কুইবেকসহ দেশের একাধিক এলাকায় আকাশে দেখা মেলে বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্যের। একই সময়ে চলতি সপ্তাহেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে পার্সেইড উল্কাবৃষ্টিও। ফলে মহাকাশপ্রেমীদের কাছে বুধবারের আকাশ ছিল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, জায়গাভেদে সূর্যগ্রহণের সময় এবং সূর্যের কতটা অংশ চাঁদের আড়ালে থাকবে, তার মধ্যে পার্থক্য ছিল। পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চাঁদ চলে এলে এবং তার ছায়া সূর্যের একটি অংশ ঢেকে দিলে যে দৃশ্য তৈরি হয়, সেটিই আংশিক সূর্যগ্রহণ। তবে এই ধরনের গ্রহণ খালি চোখে দেখার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষ সোলার-সেফটি চশমা ব্যবহার করেই গ্রহণ দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরের সেন্ট জন’সে সূর্যের অর্ধেকেরও বেশি অংশ, অর্থাৎ ৫৩ শতাংশের বেশি, চাঁদের আড়ালে চলে যায়। শার্লটটাউন ও হ্যালিফ্যাক্সে ঢাকা পড়ে সূর্যের প্রায় ৩০ শতাংশ। অন্টারিওর টরন্টোতেও দেখা যায় আংশিক গ্রহণ। সেখানে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে গ্রহণ শুরু হয় এবং বেলা ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ সূর্যের প্রায় ৮ শতাংশ অংশ ঢাকা পড়ে।
কুইবেকের মন্ট্রিয়লে সূর্যের ১৮ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে যায়। অটোয়াতে এই হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। তবে কানাডার তুলনায় ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চলে গ্রহণের দৃশ্য ছিল আরও নাটকীয় সেখানে সূর্য পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে চলে যায়।
এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে স্পেনের বিভিন্ন শহর ও নগরে ভিড় করেন লাখ লাখ মানুষ। এক শতকেরও বেশি সময় পর দেশটির বিভিন্ন অংশে পূর্ণাঙ্গ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ।
উত্তর আমেরিকায় সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল। সেদিন কানাডার মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকাতেও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করেছিলেন বাসিন্দারা। বুধবারের আংশিক গ্রহণ সেই স্মৃতিকে ফের একবার উসকে দিলেও, পার্সেইড উল্কাবৃষ্টির উপস্থিতি রাতের আকাশের আকর্ষণ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

