
ক্যানাবিস মানুষের মস্তিষ্ক ও স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা আরও গভীরভাবে জানতে বড়সড় গবেষণা উদ্যোগ নিচ্ছে কানাডা। এ লক্ষ্যে কানাডিয়ান ক্যানাবিস অ্যান্ড ব্রেইন হেলথ কনসোর্টিয়াম গঠনে ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির ফেডারেল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মারজোরি মিশেল।
কানাডিয়ান ইনস্টিটিউটস অব হেলথ রিসার্চের মাধ্যমে দেওয়া এই অর্থে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১০টি গবেষক দলকে নিয়ে একটি বিশেষ গবেষণা জোট তৈরি করা হবে। ক্যানাবিস ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন বয়সের মানুষের মস্তিষ্কে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, সেই সঙ্গে এর সম্ভাব্য উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক দুই বিষয়ই বৈজ্ঞানিকভাবে খতিয়ে দেখবেন গবেষকরা।
এই গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এপিলেপসি, উদ্বেগ, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার, ঘুমের সমস্যা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে ক্যানাবিসের সম্পর্ককে। পাশাপাশি তরুণ বয়সে এবং গর্ভাবস্থায় মস্তিষ্কের বিকাশের ওপর ক্যানাবিসের সম্ভাব্য প্রভাবও বিশ্লেষণ করা হবে।
কানাডিয়ান ইনস্টিটিউটস অব হেলথ রিসার্চের ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস, মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড অ্যাডিকশনের বৈজ্ঞানিক পরিচালক ড. প্যাট্রিসিয়া কনরড জানিয়েছেন, গবেষণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন বয়সের ৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যক্রম, মানসিক স্বাস্থ্য এবং মাদক ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
গবেষণার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তথ্যের উন্মুক্ত ব্যবহার। সংগৃহীত তথ্য পরবর্তীতে কানাডার অন্যান্য গবেষকরাও ক্যানাবিস-সংক্রান্ত নিজস্ব গবেষণার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে একটি গবেষণা প্রকল্পের তথ্য ভবিষ্যতের আরও বহু গবেষণাকে এগিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ড. কনরডের বক্তব্য, ২০১৮ সালে কানাডায় ক্যানাবিস বৈধ হওয়ার পর মাদকটির স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা অনেকটাই বেড়েছে। তবে এখনও এমন বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর অজানা রয়ে গেছে, যেগুলোর নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তাঁর মতে, নতুন এই কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও ক্যানাবিস নিয়ে কাজ করা কানাডার শীর্ষ গবেষকদের এক ছাতার নিচে আনা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ক্যানাবিস ব্যবহারে সাধারণ মানুষের সম্ভাব্য উপকার ও ঝুঁকি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট এবং প্রমাণভিত্তিক ধারণা তৈরি করা।
এই বৃহৎ গবেষণা উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়া ১০টি দলের গবেষকরা কানাডার একাধিক শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি ডি শেরব্রুক, ইউনিভার্সিটি ডি মন্ট্রিয়ল, ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি, ডালহৌসি ইউনিভার্সিটি, ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরি।
ক্যানাবিস নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই কানাডার এই উদ্যোগকে তাই শুধু এর ক্ষতিকর দিক নয়, সম্ভাব্য চিকিৎসাগত সুফলও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

